বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা মাহদী গ্রেফতার, থানা ঘেরাও

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ■

শায়েস্তাগঞ্জের ওসিকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে মাহদী হাসানের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সদর মডেল থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় থানার মূল ফটক বন্ধ থাকায় বাইরে উত্তেজনা দেখা যায়। পরে সদর থানার সামনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এর আগে আজ দুপুরে মাহদী হাসানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুকে পেজে নোটিশটি দেওয়া হয়। 

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দাবি করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন।

ভিডিওতে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, আমরা আন্দোলন করে গভর্নমেন্টকে রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন আন্দোলনকারী হয়েছেন তো কী হয়েছে? আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বললেন জানতে চাই।

 বৈষম্যবিরোধীদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এসময় তারা মাহদীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির আলটিমেটাম দেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ১১টার পর থেকে তারা শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ শুরু করেন। অবরোধের ফলে আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, মাহদী হাসানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, মাহদীকে গ্রেফতাররের আগে আমাকে গ্রেফতার করতে হবে, এক দফার ঘোষণাকারী নাহিদ ইসলামকে গ্রেফতার করতে হবে। হাসিনার সাদা পোশাকের পুলিশ আর ইউনূসের সাদা পোশাকের পুলিশ একই পুলিশ। তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আগেও আমাদের ভাইদেরকে গ্রেফতার করা হত, এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছে।

এসময় তিনি দুই দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— ১. মাহাদীকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, শ্রমিক ও জনতাকে ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

এর আগে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এসম তারা ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ এমন স্লোগান দিচ্ছেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *