সাদিক অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান কারাগারে

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার মানি লন্ডারিং মামলায় ছাগল-কাণ্ডে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালত আসামি ইমরানের জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের উপ-পরিদর্শক মো. ছায়েদুর রহমান মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও অ্যাডভোকেট আল মামুন রাসেল ইমরানের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে সোমবার দুপুরে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির মুখপাত্র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান। একই দিন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম অর্গানাইজডের উপ-পরিদর্শক জোনাঈদ হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

১৩৩ কোটি টাকা পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেনের তাঁর এসব অপকর্মের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তৌহিদুল আলম জেনিথসহ আরও পাঁচ-সাতজন জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের অতিরিক্ত ডিআইজি একরামুল হাবিব।

একরামুল হাবিব বলেন, ইমরান হোসেনকে মানি লন্ডারিং, অর্থ পাচার, অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে গরু আমদানি এবং বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে গত সোমবার রাজধানীর মালিবাগ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ১৩৩ কোটি টাকার বেশি অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর এই কাজে সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলম জেনিথসহ আরও পাঁচ-সাতজন জড়িত। তাঁদের নামেও মোহাম্মদপুর থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বাকিদের নাম এখন প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, চোরাচালান, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদনহীন ব্রাহমা জাতের গরু আমদানি ও সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বিদেশে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা পাচার করেছেন। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে থাইল্যান্ড ও মায়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে গরু ও মহিষ বাংলাদেশে নিয়ে এসে বিক্রি করেছেন।

এ ছাড়া তিনি ভুটান ও নেপাল থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে ছোট আকৃতির ভুট্টি গরু বাংলাদেশে নিয়ে এসে তা বিক্রয় করেন। দেশীয় গরু-ছাগলকে বিদেশি ও বংশীয় গরু-ছাগল বলে প্রচার করে কোরবানির পশুর হাটে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেছেন। এমন অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ১২১ কোটি ৩২ লাখ ১৫ হাজার ১৪৪ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এ ছাড়া, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বিদেশে অর্থপাচার ও অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে সর্বমোট প্রায় ১৩৩ কোটি ৫৫ লাখ ৬ হাজার ৩৪৪ টাকা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছে।

সিআইডি জানায়, ইমরান সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সাভারের কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের ১৫টি ব্রাহমা জাতের গরু জবাই করে ন্যায্যমূল্যে মাংস বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে গরুগুলো জবাই না করে কৌশলে হাতিয়ে নেন। ইমরান তাঁর অন্য সহযোগীরা অবৈধভাবে ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে এফডিআর খুলে বিনিয়োগ করেন। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় রামচন্দ্রপুর সরকারি খাল ভরাট ও জবর দখল করে। তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরে ডিএমপির জমি দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ জড়িত এমন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডিআইজি একরামুল হাবিব বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচ-সাতজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাচ্ছি। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করা এই মুহূর্তে সঠিক হবে না।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *