■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া পদত্যাগ করেছেন। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, ‘একান্ত ব্যক্তিগত কারণে আমি আজ পদত্যাগ করেছি। বয়স হয়েছে এখন আর দায়িত্ব নিতে চাচ্ছি না, অবসরের বাকি সময়টুকু রিলাক্সে থাকতে চাই।’
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়াকে এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। তিনি সাবেক সচিব।
২০২৪-এর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে না পারা–এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ
শরীয়াহ ভিত্তিক দুর্বল পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আইটি ইন্ট্রিগেশনসহ একীভূতকরণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সব ব্যাংকে নিয়োগ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসক ও সহযোগীদের নিয়ে বৈঠক করে এ নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ সময় গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একীভূতকরণ দ্রুত সম্পন্ন করার বিকল্প নেই। আজ সোমবার গভর্নর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজকের বৈঠকে পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক ও তার চারজন করে সহযোগীর সঙ্গে এ বৈঠক করেন গভর্নর। সেখানে তিনি ব্যাংকগুলোর আইটি ইন্ট্রিগ্রেশন কেন দেরি হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চান। কর্মকর্তারা ব্যাংকগুলোর আলাদা–আলাদা ডেটা একত্রিত করতে এ সময় দরকার হচ্ছে বলে জানান। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত কোনো–কোনো কর্মকর্তা বলেন, একীভূতকরণ চলমান থাকবে কিনা এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। জবাবে গভর্নর বলেন, সরকার এরই মধ্যে নতুন এই ব্যাংকে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন যোগান দিয়েছে। আমানত বীমা তহবিল থেকে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। একীভূতকরণ থেকে পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।
এর আগে গত ৩ মার্চ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকদের নিয়ে বৈঠক করেন গভর্নর। বৈঠকে শিগগিরই এই ব্যাংকের এমডি নিয়োগ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। আর প্রশাসকদের যথা নিয়মে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। যেকোনো উপায়ে এসব ব্যাংকের ঋণ আদায় জোরদার করতে বলেন। একই সঙ্গে পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে পরিচালিত যেসব কারখানার অস্তিত্ব রয়েছে তা বন্ধ হয়ে থাকলে চালুর উদ্যোগ নিতে বলেন।
দীর্ঘদিন আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারায় বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পিএলসি করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে এসব ব্যাংকের আইটিসহ সব কিছু একীভূত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসক দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি ব্যাংকে একজন প্রশাসক ও তাকে সহযোগিতার জন্য আরও চারজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা সবাই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত হতো নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে। বাকি চার ব্যাংক চলতো এস আলমের কর্তৃত্বে। ব্যাংক একীভূতকরণ শুরুর পর থেকেই আগের মালিকরা নানা বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে।
