সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঠানো এক খুদেবার্তায় অনুষ্ঠানটি স্থগিতের তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুরের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং আর্থিক খাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অতিথির উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত এই নতুন ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ উচ্চপদস্থ ব্যাংকার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে একীভূত ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মধ্যে লাভ-লোকসান নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের কিছু স্থানে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণেই অনুষ্ঠানটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্তায় অবশ্য একে ‘অনিবার্য কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই আমানতকারীদের মধ্যে মুনাফা না পাওয়া এবং টাকা উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। গত কয়েক দিনে ব্যাংকটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত উত্তোলন করা হলেও কিছু নতুন আমানতও জমা হয়েছে। এর আগে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে আংশিক মুনাফা দেওয়ার কথা জানানো হলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি আমানতকারীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী, নতুন এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ (২০ হাজার কোটি টাকা) সরবরাহ করেছে সরকার। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য স্থায়ী আমানত থেকে শেয়ারে রূপান্তর করা হবে।

টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত যেকোনো সময় তোলা যাবে। তবে এর বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই বছরে উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া স্থায়ী আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ জোরদার করাই এ ব্যাংক গঠনের মূল লক্ষ্য। আগামীকাল রোববার ব্যাংকটির উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল। যে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে এই ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

উল্লিখিত পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের। অন্য চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও সমালোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাঁরা দুজনেই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এসব ব্যাংকে নামে ও বেনামে তাঁদের শেয়ার রয়েছে, ঋণের সুবিধাভোগীও তাঁরা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *