■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
সামরিক বাহিনীর অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগে দায়ের করা আটটি মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার আট মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। লাহোর হাইকোর্ট জামিন না দেয়ার পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তাকে জামিন দেওয়া হয়।
তবে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় ইমরান এখনই কারাগার থেকে মুক্ত হবেন না। তিনি গত দুই বছর ধরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এক বার্তায় জানিয়েছে, আর মাত্র একটি মামলায় জামিন হলেই মুক্ত হবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দলটি বলেছে, “৯ মে-র মামলায় ইমরান খানকে জামিন দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। জেল থেকে বের হতে তার আর মাত্র একটি (আল-কাদির ট্রাস্ট) মামলায় জামিন প্রয়োজন।”
যদিও তাকে তোশাখানার দুইটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ইমরান খানের আইনজীবীরা একশ নব্বই মিলিয়ন পাউন্ড মামলার রায়কে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
শুনানি চলাকালীন যুক্তি উপস্থাপনের সময় বিশেষ প্রসিকিউটর জুলফিকার নকভি বলেন, ৯ মের ঘটনাবলীর নির্দেশ ইমরান খানই দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই আটটি মামলা সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে বিচারাধীন। দুই বছর ধরে বিভিন্ন আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত এই মামলার বিচারে যাবে না এবং কেবল জামিনের বিষয়টিই দেখবেন তারা।
পরে প্রসিকিউটরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, মামলায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে তার কাছে কী প্রমাণ আছে, যার জবাবে আদালতকে বলা হয়, এই মামলায় তিনজন সাক্ষীর বক্তব্যও রেকর্ডে রয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে সন্তোষজনক উত্তর উপস্থাপন করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত জামিন পান এক সময়ের বিশ্বসেরা এই ক্রিকেটার।
আদালত ইমরান খানের আইনজীবী সালমান সফদারকে যুক্তি উপস্থাপনের নির্দেশ দেয় এবং তার যুক্তি উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, এই আটটি মামলার মধ্যে পাঁচটিতে ইমরান খানের নাম নেই।
ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এক আবাসন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অবৈধভাবে প্লট নিয়েছেন তিনি। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। এই একই মামলায় ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যদিও বুশরার সাজা স্থগিত করে তাকে জামিনা দেওয়া হয়েছে। এখন ইমরানের আইনজীবীদের প্রত্যাশা বুশরার মতো তার সাজাও স্থগিত করে জামিন দেওয়া হবে।
ইমরান ও বুশরা দুজনই জানিয়েছেন, আল-কাদির ট্রাস্টের জন্য যে জমি তারা নিয়েছেন সেগুলো ব্যক্তিগত ব্যবহার নয়, হাসপাতাল ও সেবামূলক কাজে ব্যবহার করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৯ মে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে স্বল্প সময়ের জন্য গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তার গ্রেফতারে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা আছে এমন অভিযোগ তুলে ইমরানের সমর্থকরা রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরসহ অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা চালান। এরপর ইমরানের বিরুদ্ধেও হামলার মামলা দেওয়া হয়। এছাড়া এতে আরও কয়েক হাজার মানুষকে আসামি করা হয়।