জামিনে কারামুক্ত শিরীন শারমিন চৌধুরী

𓂃✍︎  নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎ 

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন।  

এসময় কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকে সাংবাদিকরা তার গাড়ি থামিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি কারোর সঙ্গে কথা না বলে ঢাকার দিকে চলে যান।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী  মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত উল-ফরহাদ জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হন। 

এর আগে রোববার আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘আমরা জামিনের বিরোধিতা করে বলি, মামলাটি তদন্তাধীন। আসামি জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন মঞ্জুর করেন।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজিয়া কবির বলেন, ‘শিরীন শারমিনের স্বাস্থ্যগত কারণ ও তাঁর ক্লিন ইমেজ বিবেচনায় আমরা জামিন আবেদন করি। আদালত আমাদের দাখিল করা যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে জামিন মঞ্জুর করেছেন।’

অপর আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিসবাহ বলেন, ‘এ পর্যন্ত অন্য কোনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই, রেকর্ডেও নেই। সে ক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী, তিনি জামিন পাবেন।’

এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আটক হন দেশের প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর ওইদিন তাকে আদালতে হাজির করে জুলাই আন্দোলনের লালবাগ থানায় আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ২ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি ডিবি।

ওইদিন দুপুর ২টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় শিরীন শারমিনকে। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শিরীন শারমিনের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে লালবাগের আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী আন্দোলন করছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

আশরাফুল চিকিৎসা গ্রহণ শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৫ মে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য লালবাগ থানাকে নির্দেশ দেন। লালবাগ থানা একই বছরের ১৭ জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু করে।

এই ঘটনায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, শিরীন শারমিন চৌধুরী, আনিসুল হকসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রংপুরে একটি হত্যা মামলা এবং ঢাকায় জুলাই আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় করা বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য মামলায় তাঁকে এখনো গ্রেফতার দেখানো হয়নি। অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো না হলে এই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাঁর মুক্তিতে আর বাধা থাকবে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকেই সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ২২ মে আশ্রয় গ্রহণকারীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। ওই তালিকায় শিরীন শারমিনের নামও ছিল।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এর পর থেকে টানা তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *