■ খুলনা প্রতিনিধি ■
খুলনা নগরীর ডাকবাংলো মোড়ে বাটার দোকানের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে মাসুম বিল্লাহ নামে এক শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পালানোর সময় পুলিশ অস্ত্রসহ আশোক নামে একজনকে আটক করেছে।
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে। তিনি রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ছিলেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
কবির হোসেন বলেন, ‘নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে ডাকবাংলো মোড়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে প্রথমে কুপিয়ে পরবর্তীতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসময় স্থানীয়দের সহায়তায় একজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ডাকবাংলা মোড়ে মাসুম বিল্লাহ অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা মাসুমকে কন্ট্র্যাক্ট কিলিং করতে আসে। ৭ জন মিলে মাসুমকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিকের একজন ইন্সপেক্টর অশোক ঘোষকে কোমরে পিস্তল রাখতে দেখে জনগণের সহযোগিতায় তাকে আটক করেন।’ তিনি বলেন, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ৭ জন জড়িত ছিল। তাঁদের কাছে ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ছিল।
এদিকে, খুলনায় দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলি লক্ষ্যচ্যুত হওয়ায় পাশে থাকা হাবিবুর রহমান নামের এক রিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা নগরের লবণচরা থানাধীন রহমতিয়া মসজিদের পাশে ঘটনাটি ঘটে। আহত যুবক সাতক্ষীরা আশাশুনি এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মাদের ছেলে। তিনি পেশায় রিকশাচালক।
জানতে চাইলে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তুহিনুজ্জামান বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার আগে আমরা রহমতিয়া জামে মসজিদের কাছে অবস্থান করি। সেখান থেকে চলে আসার কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা অপর একজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে হাবিবুর গুলির সামনে এসে পড়ে। তাঁর পিঠের ডান পাশে একটি গুলি লাগে। গুলির শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা হাবিবকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
