■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি পরিবারে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী এবং তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতেই সরকার এই কর্মসূচি চালু করেছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তারেক রহমান বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা ১৪টি উপজেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এই মুহূর্তে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করছে। আমাদের এই কড়াইল এলাকা, ভাসানটেক এলাকা এবং সাততলা— এই তিন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কার্ডের সুবিধার আওতায় আজকে নিয়ে আসা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার সরকার পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে যে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে, সেই ৪ কোটি পরিবারে যারা নারী প্রধান, তাদের কাছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সকলের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।
সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের ওয়াদা দিয়েছিলাম। এক মাস পূরণের আগেই আমরা তা পূরণ করতে পেরেছি। সেই জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। আজকের দিনটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন। কারণ, আপনাদের প্রত্যক্ষ ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা জবাবদিহি করতে বাধ্য।
তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন অঙ্গীকার পূরণে তিনি কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ
বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার। এর জন্য তিনি ছিলেন খুবই আন্তরিক; তাই বিলম্ব না করে সরকার গঠনের ২১তম দিনে বাংলাদেশের ১০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে তিনি কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে আরও একটি প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে। সেটি হলো খাল খনন কর্মসূচি।
মঙ্গলবার উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ জুনিয়র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাবেন গৃহবধূরা, নারীরা। এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক ভিত্তি দৃঢ় করা। সন্তানদের চাহিদা পূরণের জন্য তারা বেশি মায়েদের কাছে আসে, আমরা চাই পারিবারিক ভিত্তিগুলি শক্তিশালী হোক। পরিবারের নারীরা জানেন কোন খরচগুলো বেশি প্রয়োজন এবং তার পক্ষেই সম্ভব পরিবারের খরচ বাঁচিয়ে সঞ্চয় করা যায়। সেজন্য প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের যতগুলো নির্বাচনি অঙ্গীকার করা হয়েছে তার সবটি বাংলাদেশের উন্নয়নকে টার্গেট করে করা হয়েছে। এর প্রত্যেকটি ইনশাআল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব। যাতে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে।
মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সুনামগঞ্জের যতগুলো রাস্তা আছে, ব্রিজ কালভার্ট দরকার এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য যেখানে খাল খনন দরকার- তা করা হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু এখানে একটি মাত্র ফসল উৎপাদন হয় বোরো ফসল, আর কী ধরনের ভিন্ন প্রজাতির বাড়তি ফসল হিসেবে ফলানো যায় এই পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে গ্রামীণ কৃষিজীবী পরিবার যাতে বাড়তি আয় করতে পারে সে বিষয়ে কাজ করবে সরকার।
ফ্যামিলি কার্ডে কেন পরিবারের নারী প্রধানদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানালেন অর্থমন্ত্রী
পাইলট প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামেও বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে ৫ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ‘পিছিয়ে পড়া পরিবার ও নারী প্রধানদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে’।
মঙ্গলবার সকালে তার নির্বাচনি এলাকা বন্দর-পতেঙ্গা আসনের বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন হবে। এ জন্য কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে পরিবারের নারীপ্রধানদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। সাধারণত দেশের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময় লাগে। কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছা থাকলে অল্প সময়েও তা সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প তার বড় প্রমাণ। যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ভালো থাকে এবং জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকে, তাহলে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন সকালে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান প্রমুখ।
আমির খসরু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেখানে পরিবারের নারীপ্রধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারের নারী প্রধানকে ক্ষমতায়ন করা না গেলে তার সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি না হলে আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এই চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ডে ধারণা এসেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু ভাতা প্রদান নয়, বরং নারীদের দেশের অর্থনীতির সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করে তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আত্মমর্যাদা ও সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি করাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারের প্রধান নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
