দেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন তারেক রহমান

মুজতবা খন্দকার ■ 

সতেরো বছর লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর ১৬ দিন হলো দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের মানুষ বদলে যাওয়া একজন তারেককে অবিশ্বাস্য রকম সমর্থন জানিয়েছে। দেশে মিডিয়া গত সতের বছরে যার সস্পর্কে একটি পজেটিভ বাক্য লেখেনি। সেই একই মিডিয়া নানারকম বিশেষন দিয়ে শব্দমালা গেঁথে তারেক রহমানকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে। মিডিয়ার এই দৃশ্যমান পরিবর্তনও আমলযোগ্য বটে।

সতের বছর পর শনিবার প্রথমবারের মতন তারেক রহমান গণমাধ্যমের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন। সেই মত বিনিময়ে অনেকখানি খোলাসা হবে, এদেশের গণমাধ্যম তারেক রহমানকে সত্যিকারে কিভাবে দেখে আর তাঁকে কিভাবে মূল্যায়ন করে। তবে, ব্যক্তিগতভাবে দেশের গণমাধ্যমের পরিপক্কতা নিয়ে সব আমার সময় সংশয় ছিলো; এখনো আছে। হাসিনা ফ্যাসিষ্ট হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিলো আমাদের তথাকথিত স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা। তারেক রহমানকে বিতর্কিত করার জন্য অনেক সাংবাদিকই মুখিয়ে আছে। ইতিমধ্যে তাঁর নমূনা আমরা কিছুটা হলেও দেখেছি। এদের ভূমিকা অনেকটা ধর্মেও আছি, জিরাফেও আছি ধরণের। এদের সম্পর্কে যতবেশি সচেতন থাকা যায় তত তাঁর জন্য তো বটে, দেশের জন্যও মঙ্গল।

তারেক রহমান ৫ আগস্টের পর থেকে বেশ কয়েবার দেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। সামাল দিয়েছেন গৃহযুদ্ধ থেকেও। হাসিনার ফ্যাসিষ্ট রেজিমে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর যে নির্দয় আচরণ, যে জুলুম চালানো হয়েছিলো, সেটা যদি তিনি মনে রাখতেন, যদি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেন, হটকারিতা করতেন তবে ৭ আগস্ট; সরকারই গঠন হতে পারতো না। রক্তক্ষয়ী এক অধ্যায় শুরু হতো। এরপর রাষ্ট্রপতি ও সংবিধান ইস্যুতে তার অবস্থান কেমন করে রক্তপাত ঠেকিয়েছে, তা যাদের বুঝাতে হবে, তাদের জন্য এ লেখা নয়। শুধু বলি, একশ বছর পরও আওয়ামী লীগ ফিরে এলে তাদের সশ্রদ্ধভাবে মনে করা উচিত যে, একজন তারেক রহমানের কল্যানে তাদের নামটা অন্তত টিকে ছিলো।

তবে আমি আশাবাদী। আমি বিশ্বাস করতে পছন্দ করি যে, সতের বছর নির্বাসিত জীবন তারেক রহমানকে নি:সন্দেহে আমুল বদলে দিয়েছে। বদলে দিয়েছে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও। তিনিও জীবনকে নতুন করে উপলব্ধি করেছেন আর নতুন করে জীবন উপলব্ধি করতে পারার পর থেকে আর বসে থাকেননি তিনি।

আমি অনুমান করি, এই লম্বা লন্ডনবাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি করুন আর নাই করুন; একের পর এক কোর্স করেছেন। রাজনীতি নিয়ে, ইতিহাস নিয়ে, লাইফ স্টাইল নিয়ে, কথা বলা নিয়ে, সৃজনশীলতা নিয়ে তিনি প্রচুর কাজ করেছেন; এটা পরিষ্কার। সেই সাথে নিজের চারপাশের সঙ্গ বদলে ফেলেছেন। খুব ক্রিয়েটিভ এবং প্রফেশনাল একটা পারসোনাল টিম করেছেন; এটা বুঝতে কষ্ট হয় না। আর এর সবকিছু প্রভাব আমরা গত পাঁচ আগষ্টের পর থেকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি।

তারেক রহমান ৫ আগস্টের পর থেকে বেশ কয়েবার দেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। সামাল দিয়েছেন গৃহযুদ্ধ থেকেও। হাসিনার ফ্যাসিষ্ট রেজিমে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর যে নির্দয় আচরণ, যে জুলুম চালানো হয়েছিলো, সেটা যদি তিনি মনে রাখতেন, যদি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেন, হটকারিতা করতেন তবে ৭ আগস্ট; সরকারই গঠন হতে পারতো না। রক্তক্ষয়ী এক অধ্যায় শুরু হতো। এরপর রাষ্ট্রপতি ও সংবিধান ইস্যুতে তার অবস্থান কেমন করে রক্তপাত ঠেকিয়েছে, তা যাদের বুঝাতে হবে, তাদের জন্য এ লেখা নয়। শুধু বলি, একশ বছর পরও আওয়ামী লীগ ফিরে এলে তাদের সশ্রদ্ধভাবে মনে করা উচিত যে, একজন তারেক রহমানের কল্যানে তাদের নামটা অন্তত টিকে ছিলো।

শুধু আর্ট এপ্রিসিয়েশন বা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট নয়; গত দেড়বছরের এই ক্রান্তিকালে তার আরেকটা বড় কাজ মুক্তিযুদ্ধকে ধরে রাখা; যেটা এখনও চলমান। তার অনুমোদনক্রমে গত কয়েক মাস রাজনৈতিক সমীকরণ সামলাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ বিএনপি নেতারা মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরকে বারবার সামনে এনেছেন। পরিষ্কার করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের জমিন তারা ধরে রাখতে চান।

আপনি অন্তত এই কালে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি’ বলতে কেবল বিএনপিকেই বুঝতে পারেন। অবশ্য আমাদের তরুন প্রজন্মকে গত দেড় দশকের বেশী সময় ধরে কেবল শিখানো হচ্ছিল যে, বিএনপি হলো রাজাকারের দল!

তবে, রাজনীতিতে শেষ কথা নেই।

এখনও নতুন তারেক রহমানের চেহারাটা পুরো উন্মোচন করেছেন, সেটা বলা যাবে না। সেটা দেখতে হলে আমাদের ক্ষমতায় যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সম্ভবত এবার তাকেই প্রধানমন্ত্রী হতে হবে। তখন বোঝা যাবে, লন্ডন জীবন তাকে কতোটা ব্রিটিশ সিভিলাইজড করলো! আমরা চাই,দেশে সিভিলাইজেশন ফিরে ফিরে আসুক। জয়তু: তারেক রহমান।

লেখক: যুগ্ম প্রধান বার্তা সম্পাদক, এনটিভি

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *