■ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ■
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ইতিহাসে প্রথম কোনও নারী শিক্ষার্থী ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন তাসিন খান। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। ইতিমধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
তাসিন খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জুলাই আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক।
১৯৬৪ সালে রাকসু প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ১৪ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে একাধিক ছাত্রী কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাচনে অংশ নিলেও কোনও নারী প্রার্থী এখন পর্যন্ত ভিপি পদে অংশ নেননি। দীর্ঘ ৩৫ বছরের বিরতির পর এবার আবার রাকসু নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে নারী হিসেবে শুধু তাসিন ভিপি পদে প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্রী হলের একাধিক ছাত্রীও অন্যান্য পদে প্রার্থিতা করছেন।
এই বিষয়ে তাসিন খান বলেন, ৫ আগস্টের পর যখন রাকসু নিয়ে আলাপ শুরু হয়েছিল, তখনই ভেবে নিয়েছিলাম দাঁড়াবো। কিন্তু পদ ঠিক করা ছিল না। পরে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম; ভিপি পদে নির্বাচন করবো।
তিনি বলেন, রাকসু একটি ঐতিহাসিক সুযোগ আমাদের কাছে। এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেই আমি আমার দক্ষতার জায়গা থেকে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। এটা আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। কারণ, আমার কোনও দলীয় সাপোর্ট, ফান্ডিং বা কর্মীবাহিনী নেই।
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে নাম লিখলাম, তখন ভেবেছিলাম; হয়তো আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হবে না। হয়তো রাজপথে মারা যাবো, নয়তো বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হবে। সেই জায়গায় মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখেছিলাম। পরে, স্বাভাবিক জীবন পেলাম। এই বোনাস সময়ে আমার কিছু হারানোর ভয় বা প্রাপ্তির লোভ নাই। জুলাই আমাকে বিবেকের গুরুত্ব খুব ভালোই উপলব্ধি করিয়েছে। সামনে একাধিক সুযোগ আসার পরেও আমি কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে শ্রেয় মনে করিনি।
তবে শঙ্কা প্রকাশ করে তাসিন বলেন, রাকসুতে বেশ বড় একটা ক্ষমতা অর্জনের বিষয় আছে। সেই জায়গা থেকে ক্যাম্পাসে একটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সম্মানহানির আশঙ্কার রয়ে গেছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন এবং ছবি বিকৃত করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো নোংরামি করা হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি এন্টি সাইবার বুলিং সেল গঠনের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু তার কার্যক্রম আমরা এখনও শুরু হতে দেখলাম না। ফলে নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সাড়া কেমন পাচ্ছেন—এমন প্রশ্নে তাসিন বললেন, ‘এখন যাদের সাড়া পাচ্ছি, তারা সবাই আমার কাছের মানুষজন। তারা আমার সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনে, রাজপথে কাজ করে এসেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাড়া বুঝতে পারব প্রচারণা শুরু হওয়ার পর, ইশতেহার দেওয়ার পর। এখন আমার সাধ্য অনুযায়ী একটা গ্রহণযোগ্য ইশতেহার নিয়ে কাজ চলছে।’
নির্বাচন নিয়ে কিছুটা ভয়ও আছে তাসিনের। জানালেন, ‘মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব আছে এমন বেশ কয়েকটা সংগঠন সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এই জায়গায় একটা অপ্রীতিকর অবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুধু প্রার্থী হিসেবে নয়, ভোটার হিসেবেও অনিশ্চয়তায় ভুগছি। প্রশাসন এখনো সেভাবে তৎপর নয়। সাইবার বুলিং সেল গঠনের কথা ছিল, কিন্তু এটার এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এই সংকটগুলো দূর করতে হবে। ভোটার ও প্রার্থীরা যাতে সহাবস্থান করতে পারে, সেটা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে।’
রাকসুর প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়েছে ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর। ভোট গ্রহণ করা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। বহুল প্রতীক্ষিত এই ভোটে এখনই প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।