৮ দাবিতে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

■ যশোর প্রতিনিধি ■

আট দফা দাবি না মানলে আগামী ১২ আগস্ট থেকে সারা দেশে ৭২ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) যশোর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের প্রতিনিধি সভায় এ কথা জানানো হয়।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব সাইফুল আলম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দুর্ঘটনায় চালকের জামিন না পাওয়ার আইন সংশোধনসহ ৮ দফা দাবি না মানলে এ ধর্মঘট হবে। যোগাযোগ উপদেষ্টার কাছে আমরা আট দফা দাবি জানিয়েছি। সারা দেশে দাবির পক্ষে প্রচার চলছে। আমাদের দাবি মেনে না নিলে ১২ আগস্ট ভোর ৬টা থেকে ১৫ আগস্ট ভোর ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হবে।

সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ যশোরের সভাপতি আনিসুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে ও যশোর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোর্ত্তজা হোসেনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ লতিফ, বরিশাল জেলা প্রতিনিধি ইউসুফ হাওলাদার প্রমুখ।

কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি—১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব দাবি না মানলে ১২ আগস্ট ভোর ৬টা থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। এর পর আর পিছু হটা হবে না।’

তিনি ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘দুর্ঘটনার মামলায় জামিন পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার। এটি আদালত নির্ধারণ করবে, আইন করে আটকে দেওয়া সংবিধানবিরোধী। এই ধারা সংশোধন করতে হবে।’

বাণিজ্যিক যানবাহনের ব্যবহারের মেয়াদ নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০ বছরের বেশি পুরোনো গাড়িগুলোকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে দেশের ৮০ শতাংশ গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। যে গাড়ির ফিটনেস আছে, তাকে চলতে দিতে হবে। ৮৩ বছর বয়সী একজন মানুষ যদি প্রধান উপদেষ্টা হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে ২০ বছরের গাড়ি কেন অচল?’

পরিবহন খাতের নেতারা যে মূল দাবিগুলো তুলেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: চালকদের জামিনসংক্রান্ত সড়ক পরিবহন আইনের ধারাগুলো সংশোধন, বাণিজ্যিক যানবাহনের মেয়াদ ৩০ বছর করা এবং ততদিন পর্যন্ত ডাম্পিং বন্ধ রাখা, বাণিজ্যিক গাড়িতে অগ্রিম আয়কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, ১২ বছর বয়সী রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানির অনুমতি, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালিকদের ফেরত দেওয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির জন্য স্ক্র্যাপ নীতিমালা তৈরি, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও অবৈধ হালকা যানবাহনের জন্য আলাদা লেন চালু করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং শ্রমিক ফেডারেশনের বিদ্যমান ১২ দফা দাবি বাস্তবায়ন।

সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার এসব দাবি না মানলে আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

তারা বলেন, ‘একবার ধর্মঘট শুরু হলে আর পিছু হটা হবে না।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *