ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করলেন ট্রাম্প

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■ 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না-শুধু নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।’

পোস্টে তিনি আরও বলেন, ইরানে এমন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন যাকে তিনি ‘গ্রহণযোগ্য’ মনে করেন। তার মতে, বর্তমান নেতৃত্ব সরে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।

ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী আইআরজিসি সদস্যদের অস্ত্র ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তারা আত্মসমর্পণ করলে ‘পূর্ণ নিরাপত্তা বা দায়মুক্তি’ দেওয়া হতে পারে; অন্যথায় তাদের জন্য ‘নিশ্চিত মৃত্যু’ অপেক্ষা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরানকে গোপনে মার্কিন সামরিক গতিবিধির তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে সরাসরি মস্কোর জড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, রাশিয়া বর্তমানে ইরানকে মার্কিন সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান এবং গতিবিধি-সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাশিয়া মূলত তাদের মহাকাশে থাকা অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ধারণ করা ছবি ও তথ্য ইরানের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে। তবে এই সামরিক সহায়তার বিনিময়ে রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে কী সুবিধা পাচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সিএনএন এই বিষয়ে ক্রেমলিন ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই গোয়েন্দা তথ্যের খবর সামনে আনে। রাশিয়ার দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের কোনো হামলা পরিচালিত হয়েছে কি না, তা এখনো শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন সেনাদের অবস্থান রয়েছে—এমন বেশ কয়েকটি জায়গায় ইরানি ড্রোন নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে।

এর মধ্যে গত রোববার কুয়েতে মার্কিন সেনাদের একটি অস্থায়ী আবাসে এমনই এক ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে, চীন এখন পর্যন্ত সরাসরি এই যুদ্ধে না জড়ালেও তারা ইরানকে আর্থিক সহায়তা, যন্ত্রাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন পার্টস দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চীন মূলত ইরানের তেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল এবং তারা তেহরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে চাপ দিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চীন তাদের সমর্থনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক। তারা চায় যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক; কারণ, এই যুদ্ধ তাদের জ্বালানি সরবরাহকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

সিএনএন এই বিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মন্তব্য জানতে চেয়েছে। অন্যদিকে সিআইএ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত বুধবার পেন্টাগনে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধে রাশিয়া ও চীন আসলে কোনো বড় ‘ফ্যাক্টর’ নয়। তবে তিন বছর ধরে রাশিয়া ও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরান যেমন রাশিয়াকে ‘শাহেদ’ ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে সাহায্য করেছে এবং রাশিয়ায় ড্রোনের কারখানা তৈরিতে সহায়তা দিয়েছে, রাশিয়াও তার বদলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শক্তিশালী করতে কাজ করেছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *