মার্কিন যুদ্ধজাহাজে বন্দী মাদুরোর প্রথম ছবি প্রকাশ

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছবি প্রকাশ করছেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইউএসএস আইও জিমায় নিকোলা মাদুরো।’ ছবিতে দেখা যায়, এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এই নেতা একটি ধূসর রঙের ট্র্যাকসুট (ব্যায়ামের পোশাক) পরে আছেন। তাঁর চোখ একটি কালো রঙের বিশেষ পট্টি (সেন্সর-ডিপ্রাইভেশন গগলস) দিয়ে ঢাকা এবং কানে হেডফোন লাগানো। হাতে একটি পানির বোতল ধরা অবস্থায় তাঁকে বেশ বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল।

ছবিটি প্রকাশের পর ফক্স নিউজকে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বহনকারী জাহাজটি এখন নিউইয়র্কের দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, তারা এখন ইউএস আইও জিমায় আছে। হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত চমৎকার এক ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের সেখানে নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাসবাদ বা নার্কো-টেররিজম, কোকেন আমদানি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বন্ডি বলেন, ‘খুব শিগগির তাঁরা মার্কিন মাটিতে মার্কিন আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হবেন।’

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন মাদুরো তাদের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ইও জিমাতে আছেন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, “তারা ইউএসএস ইও জিমা জাহাজে আছে, তারা জাহাজে। তাদের নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। হেলিকপ্টারে তাদের প্রথমে প্রাসাদ থেকে বের করে আনা হয়। তারা হেলিকপ্টারে খুব ভালো একটি ফ্লাইটে করে গেছেন— আমার বিশ্বাস তারা এই ফ্লাইট খুব পছন্দ করেছেন। কিন্তু মনে রাখুন, মাদুরো ও তার স্ত্রী অনেক অনেক মানুষকে হত্যা করেছেন।”

ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র

যতক্ষণ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা নিরাপদ, সঠিক এবং দেশটিতে বিচক্ষণতার সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হবে ততক্ষণ ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্র চালাবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন সেনারা। ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রাম্প।

সেখানে তিনি জানান, খুবই দ্রুত ও ক্ষ্রিপতার সঙ্গে মাদুরোকে আটক করেছে তাদের সেনারা। ওই সময় তাদের জন্য ভেনেজুয়েলার সেনারা অপেক্ষা করলেও তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেছেন, “বিশ্বের অন্য কোনো দেশ তা অর্জন করতে পারত না, যা যুক্তরাষ্ট্র গতকাল করে দেখিয়েছে। সত্যি বলতে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সামরিক শক্তিকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলে মধ্যরাতের গভীরে অত্যন্ত সফলভাবে মাদুরোকে বন্দি করেছে। চারপাশ তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার ছিল, কারণ আমাদের বিশেষ দক্ষতার মাধ্যমে কারাকাস শহরের প্রায় সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ভেনেজুয়েলায় দ্বিতীয় বড় হামলা চালানো হবে। কিন্তু মাদুরোকে যেহেতু এখন আটক করা হয়েছে এবং প্রথম হামলা সফল হয়েছে তাই আর হামলা চালানোর সম্ভাবনা নেই।

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করা হবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় সাধুবাদ জানাল ইসরায়েল

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ ও আটকের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এই অভিযানকে বিশ্ব রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গিদিয়ন সার লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মুক্ত বিশ্বের নেতার মতো কাজ করেছে। ইসরায়েল সেই স্বৈরশাসকের অপসারণকে স্বাগত জানায়, যে একটি মাদক ও সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি ভেনেজুয়েলায় পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আবার স্থাপিত হবে।’

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, মাদুরোর শাসনামলে ভেনেজুয়েলার জনগণ দীর্ঘকাল ধরে ‘অবৈধ একনায়কতন্ত্রের’ শিকার হয়েছে। তাঁর মতে, দক্ষিণ আমেরিকা এখন সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্তির নতুন পথ দেখবে।

তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাওয়া উচিত। ইসরায়েল সব সময় স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে রয়েছে।’

উল্লেখ্য, হুগো চাভেস এবং পরবর্তী সময় নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে ইসরায়েলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক ছিল চরম বৈরী। মাদুরো সরকার ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন এবং ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে ইসরায়েলের কড়া সমালোচক ছিলেন। ২০০৯ সালে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে ভেনেজুয়েলা ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। এখন মাদুরোর পতনকে ব্যবহার করে লাতিন আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব পুনরায় বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে তেল আবিব।

অনেকের মতে, মাদুরোর অপসারণের ফলে ভেনেজুয়েলায় যদি একটি পশ্চিমাপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্রদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *