■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানটে হামলার পরদিনই রাজধানীর তোপখানা রোডের উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্য ৭টা ২০ মিনিটে আগুন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির একাংশের সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন।
পরিকল্পিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে বলে উদীচীর একাংশের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে দাবি করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে একদল লোক এসে কার্যালয়টি ভাঙচুর করে ও অগ্নিসংযোগ করে। আগুন লাগার পর কার্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বলেন, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় উদীচীর কার্যালয়ে ৭টা ২০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাই। পরে সাড়ে ৭টার দিকে সিদ্দিকবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের চারটি ইউনিট সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
রাত সাড়ে আটটার দিকে যোগাযোগ করা হলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের গণমাধ্যম শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাজাহান শিকদার বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নেভাতে অংশ নেয়। রাত সোয়া আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির সংগীত বিদ্যাপীঠ ছায়ানট ভবনে আন্দোলনকারীরা প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। সিসি ক্যামেরা-ভবনের দরজা, জানালা ও অন্যান্য সরঞ্জাম এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কম্পিউটার, ল্যাপটপ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে এসময়। আগুন দেন ভবনের বাইরে। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, ফায়ার সার্ভিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৬ তলা ভবনটির নিচ তলায় আগুন লাগানোর চিহ্ন রয়ে গেছে। তোশক, তবলা, চেয়ার, হারমোনিয়াম সবকিছু ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। দোতলা থেকে ছয়তলার প্রতিটি কক্ষে থাকা সব জিনিসপত্র, বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন কর্মী জানান, হামলা ভাঙচুরে অফিসের দলিল ও শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙচুর করা হয় সভাপতির কক্ষ, বিদ্যায়তন, রমেশ চন্দ্র স্মৃতি মিলনায়তন, মূল মিলনায়তন, শৌচাগার।
তিনতলার একটি কক্ষে হারমোনিয়াম ও স্তুপাকারে রাখা কিছু বই পোড়ানো ছিল। সনজীদা খাতুন ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পেইন্টিংটি কেটে ফেলা হয়েছে।
রাত সোয়া তিনটায় ছায়ানট কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
ছায়ানটে হামলার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ছায়ানটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। ছায়ানট স্থির প্রত্যয়ে যাত্রায় অবিচল থাকবে।
এর আগে গতকাল রাতে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয় ও ফার্মগেটে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হলেও ভাঙচুর থামানো যায়নি। অগ্নিসংযোগের পর কার্যালয় দুটির সামনে জড়ো হওয়া শত শত ছাত্র-জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় ডেইলি স্টার ভবনের ছাদে আটকা পড়েন ২৮ জন সংবাদকর্মী। আগুনের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে তাঁরা বাঁচার জন্য সমাজমাধ্যম ফেসবুকে আকুতি জানান। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ সময় তারা প্রথম আলো ও ভারতবিরোধী নানান স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে কিছু লোক অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করে। সেখানকার কাগজপত্র, কম্পিউটার নিচে ফেলে দেয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের সামনে অগ্নিসংযোগও করে। প্রথম আলোর সামনে অগ্নিসংযোগের পর খানিকটা দূরে বহুতল ডেইলি স্টার ভবনের সামনে জড়ো হয় বিক্ষুব্ধরা। তারা একপর্যায়ে ডেইলি স্টার ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং অগ্নিসংযোগ করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে অগ্নিসংযোগ থেকে নিবৃত করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। অনেককেই অফিস দুটির বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সূত্র জানান, উত্তেজিত হয়ে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর শুরু করে। হামলায় কার্যালয়ের বেশির ভাগ জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে টেবিল-চেয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাইরে রাস্তায় বের করে নিয়ে আসে এবং সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় বিক্ষোভকারীদের ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।ভাঙচুরের সময় প্রথম আলো কার্যালয় থেকে কর্মীরা নিরাপদে বের হয়ে আসতে পারলেও ডেইলি স্টার কার্যালয়ের নিচতলায় অগ্নিসংযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বের হতে পারেননি। এ সময় তাঁরা জীবন বাঁচাতে প্রতিষ্ঠানটির ছাদে আশ্রয় নেন। আগুনের ধোঁয়ায় কর্মীদের অনেকেই শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, কয়েক শ লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলায় কারা অংশ নিয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আগুনের ঘটনায় আমাদের তিনটি ফায়ার স্টেশনের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতার কারণে ইনিটগুলো বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রথম আলোতে ও ডেইলি স্টারে আগুন নির্বাপণের কাজ করে কয়েকটি ইউনিট। পুলিশের সহায়তায় তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের আরও একটি ইউনিট ডেইলি স্টারে আগুন নেভানোর কাছে কাজে অংশ নেয়। এ দুই ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর ছাদে আটকা পড়া সংবাদকর্মীদের উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ওপর হামলায় মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের নিন্দা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ভবনে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক বৈশ্বিক জোট মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (এমএফসি)।
মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গত রাতে সাংবাদিক, সম্পাদক এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছে—মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন তার কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে। এ ধরনের সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারে সরাসরি আঘাত।’
মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন হামলায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সকল সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভয়ভীতি ছাড়া সাংবাদিকদের কাজ করার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া অপরিহার্য। আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং একটি উন্মুক্ত ও তথ্যসমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের জন্য সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
গণমাধ্যমের ওপর হামলার দায় সরকার এড়াতে পারে না: টিআইবি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে পরিকল্পিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে মুক্ত গণমাধ্যম, ভিন্নমত ও বাক্স্বাধীনতার ওপর সংঘটিত ও অভূতপূর্ব ধ্বংসাত্মক হামলার ঘটনাকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি, নাগরিক নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টার্গেটেড শুটিংয়ে জড়িতদের গ্রেফতারে ব্যর্থতা এবং পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অদূরদর্শিতা ও অদক্ষতারই প্রতিফলন। এর ফলে গণরোষ থেকে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি আরও বেড়েছে, যার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পর বিজয়ের দাবিদার কিছু শক্তির আক্রোশপূর্ণ ও প্রতিশোধপ্রবণ আচরণ রাষ্ট্র ও সমাজে নতুন ধরনের দমনমূলক প্রবণতা তৈরি করছে। এর সরাসরি শিকার হচ্ছে মুক্ত গণমাধ্যম, ভিন্নমত ও বাক্স্বাধীনতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কার্যকর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং অতীতে অনুরূপ সংকটে নতজানু অবস্থান গ্রহণ করে রাষ্ট্র নিজেই অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে।
টিআইবি জানায়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর হামলা, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটে আক্রমণ এবং কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাসকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন নয়। বরং এসবই মুক্তচিন্তা, ভিন্নমত ও স্বাধীন মতপ্রকাশকে পরিকল্পিতভাবে দমনের জ্বলন্ত উদাহরণ।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে যেভাবে মানবিক মূল্যবোধ ও মৌলিক মানবাধিকার পদদলিত হয়েছিল, আজ সেই একই দমনমূলক বাস্তবতা নতুন রূপে ফিরে আসছে। যারা বিগত ১৬ বছর অধিকার হরণের শিকার হয়েছেন এবং জুলাই আন্দোলনের বিজয়ী হিসেবে নিজেদের দাবি করছেন, তাঁদেরই একাংশের হাতে আজ মুক্ত গণমাধ্যম ও ভিন্নমতের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও মূল্যবোধ চরম হুমকির মুখে পড়ছে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্প্রীতি ও বহু সংস্কৃতির সহাবস্থানের যে স্বপ্ন একাত্তর ও জুলাই ধারণ করেছিল, তা আজ গভীর সংকটে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আবেগকে কাজে লাগিয়ে মুক্ত গণমাধ্যম ও নাগরিক অধিকারের বিরোধী স্বার্থান্বেষী মহল পতিত শক্তির ইন্ধনে সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি এবং মুক্ত গণমাধ্যম ও নাগরিক অধিকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর, সমন্বিত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
ড. ইফতেখারুজ্জামান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং একাত্তর ও জুলাইয়ের মৌলিক আদর্শ আরও গভীর সংকটে পড়বে, যার দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না।
