■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি ইরানের ৬টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই শহরগুলো হলো ইস্ফাহান, কোম, লোরেস্তান, কারাজ, কেরমানশাহ ও তাবরিজ।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। এতে পাঁচজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায়। এরপর ইরানের পূর্ব ও পশ্চিমাঅঞ্চলসহ তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, ইরানজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলা চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এটি অব্যাহত থাকবে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইরনা তাদের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯ টার দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়। তার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে এই ৬ শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এবং ইরনা।
ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, তেহরানে যে স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তার কাছেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তর।
কাতার, কুয়েত ও আরব আমিরাতের আকাশসীমা বন্ধ
আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে উপসাগরীয় দেশ হলো- কাতার, কুয়েত ও আরব আমিরাত। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্নস্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ইরানের পাল্টা হামলার পর এবার বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় শনিবার উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর আগে ইরান, ইরাক ও ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাব দিতে পাল্টা মিসাইল হামলা শুরু করেছে ইরান। এরই মধ্যে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে উত্তর ইসরায়েলে আঘাত করেছে ইরানি মিসাইল। সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এরপরই বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেল।
বাহরাইন নিশ্চিত করেছে, দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দফতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোতে যুগপৎভাবে বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা সূত্র বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।
এরপরই সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে দেখা দেয়। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছে এবং সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
এর আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনায় সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এখন পরিস্থিতি আরও উত্তেজক এবং সংঘর্ষ অনিবার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের দিকে আসছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এর ফলে দেশটির বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বেজে উঠেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে জনসাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি প্রতিহত করার কাজ করছে। প্রয়োজন দেখা দিলে হুমকি নির্মূল করার কাজও করছে তারা।
ইতিমধ্যে, কিছু গণমাধ্যমে ইসরায়েলে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস জানিয়েছে, হামলার জবাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরান কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র মাজিদ আখভান জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরো দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকবে। খবর আলজাজিরা।
এদিকে, ইরানে সরাসরি বিমান হামলা চালানোর পর শনিবার সকালে নিজেদের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলও।
দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া যারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের নিজ নিজ এয়ারলাইনস এবং সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট চেক করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তর ও পূর্ব অংশে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শনিবার তেহরানে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে শহরটির বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরণের খবর আসে।
খামেনির অফিস টার্গেট করে হামলা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে।
বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল উত্তর ইসরায়েল
ইরানে যৌথভাব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর ইসরায়েলে হামলা শুরু করে ইরান। নিজেদের আকাশসীমা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েল। ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে উত্তর ইসরায়েলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করার কথা বলার ঠিক পরেই বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেল।
চলমান আক্রমণে কোনো পক্ষ থেকেই কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি।
