মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কেমন শক্তিশালী

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি স্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত।

বাহরাইন, মিসর, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

এ ছাড়া তুরস্ক ও জিবুতিতে বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো থেকেও মধ্যপ্রাচ্য-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বাহরাইন ও কাতারে সবচেয়ে বড় ঘাঁটি

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি বাহরাইন ও কাতারে। প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে বাহরাইনে। এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত। এই বহর পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগর এলাকায় দায়িত্ব পালন করে।

কাতারের রাজধানী দোহার উপকণ্ঠে অবস্থিত আল-উদেইত বিমানঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। এখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা রয়েছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান কৌশলগত সদর দপ্তর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব

কুয়েতে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা রয়েছে। এখানে রয়েছে ক্যাম্প আরিফজান, আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং ক্যাম্প বুরিং নামে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এই তিনটি ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের লজিস্টিকস, প্রশিক্ষণ এবং আকাশপথের কার্যক্রম পরিচালনার মূল কেন্দ্র।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা রয়েছে। সেখানকার আল দাফরা বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। রাজধানী রিয়াদের কাছে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বিমানঘাঁটি।

ইরাক, সিরিয়া ও জর্ডানে মার্কিন সেনা

ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০, সিরিয়ায় প্রায় ২ হাজার এবং জর্ডানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মার্কিন সেনা রয়েছে। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি লেভান্ত অঞ্চলে মার্কিন অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ইনসিরলিক বিমানঘাঁটিতেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি রয়েছে। এখানে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক শক্তি

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে বলে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নৌ ও আকাশশক্তি মোতায়েন করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর মোতায়েন। জাহাজটি বর্তমানে ইরান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরে অবস্থান করছে।

এই রণতরীর সঙ্গে রয়েছে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডকেও ওই অঞ্চলের দিকে যেতে দেখা গেছে। এ ছাড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করা নিয়ে রয়েছে দ্বিধা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ ইরানে আক্রমণের ক্ষেত্রে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিতে রাজি নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। কাতার, ওমান ও তুরস্কও যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা সতর্ক করেছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *