■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
রাজধানীর তুরাগের মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এক নারী মারা গেছেন। নিহত নারীর নাম মুক্তা আক্তার (২১)। অটোরিকশা থেকে ভ্যানেটি ব্যাগ টান দিলে রিকশা থেকে পড়ে মুক্তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মুক্তার স্বামী লিমন হোসেন জানান, তার স্ত্রী আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেনাকাটা করে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিল। পথে তুরাগের মেট্রো রেল সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ধরে টান দিলে অটো থেকে পড়ে গুরুত্ব আহত হন মুক্তা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেলে নিলে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর তারা আরেকটি হাসপাতালে নেন। কিন্তু তারা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠান। ঢামেক নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বামী লিমন হোসেনের কাছে এখনো যেন সব দুঃস্বপ্নের মতো। সকালে একসঙ্গে বের হওয়া মানুষটি যে আর ফিরবেন না—এটা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। লিমন হোসেন বলেন, ‘সকালে আমরা একসঙ্গে দর্জির দোকানে গিয়েছিলাম। কাপড় দিয়ে বাসায় ফিরি। পরে ও বলে, কিছু জিনিস কিনে আসবে। আধা ঘণ্টা পর খবর পাই—ও আহত।’
মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরগুনায়। স্বামীর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে। উত্তরার আব্দুল্লাহপুরের ফায়দাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তাঁরা। ঈদের পরদিনই বরগুনায় বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল মুক্তার। সেই পরিকল্পনা নিয়েই বেশ কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
‘ও খুব খুশি ছিল। বলছিল, ঈদের পরদিন বাবার বাড়ি যাবে। সেই জন্যই কেনাকাটা করতে বের হয়েছিল’—বলতে বলতেই ভেঙে পড়েন লিমন। তারপর থেমে থেমে বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
