আনমনে তোমায় ভাবি

আনমনে তোমায় ভাবি

:: মো: ফজলে রাব্বি ::

হেমন্তের দুপুর পেরিয়ে বিকেল আমি তখন ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বারান্দায় দাড়িয়ে আছি আর তোমাকে ভাবছি। সাথে ভারতীয় শিল্পী অনুপমের গান শুনছি, ওপারে থাকবো আমি, তুমি রইবে এ পাড়ে, শুধু আমার দুচোখ ভরে দেখবো তোমারে ! আসলেইতো এই যে আমি পদ্মার এ পাড়ে আর তুমি ওপাড়ে। আমার দুচোখ ভরে সত্যিই তোমাকে প্রতিনিয়ত দূর থেকে দেখছি।

শেষ বিকেলে তোমাকে ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা নেমে এলো। আকাশটাকে ঘুম পাড়িয়ে চাঁদমামা জেগে উঠলো ৷ আমি ভাবতে লাগলাম জীবনে চলার পথে হুটহাট করে এমন অনেক সন্ধ্যাই নেমে আসে। কিন্তু এইসব সন্ধ্যা গুলো কাঁটিয়ে উঠার জন্য দরকার একটা চমৎকার জোৎসার আলো। আমি মনে করি এইসব সন্ধ্যাগুলো আলোকিত করার জন্য তুমি ঠিক সেরকমই একজন।

প্রতিনিয়তই সন্ধ্যার আজানের পর পর এক কোলাহল মুক্ত পৃথিবী গ্রাস করে আমাকে। সব কিছু যেনো কিছুক্ষণের জন্যে থমকে দাঁড়ায়। কোনো কোলাহল থাকে না ধরনীতে। দুএকটা পাখি হয়তো আওয়াজ ছাড়া উড়ে যায়। কিছুক্ষণ লাইট নিভিয়ে একাগ্রচিত্তে সন্ধ্যায় আবেশিত আকাশটার দিকে তাকালে মনের মধ্যে হাহাকার জেগে উঠে। কিছুক্ষণ আগে শেষ হওয়া আজান টার রেশ তখনো মনেরগহীনে যেনো উঁকি মারতে থাকে। দখিনা বাতাস এসে চলন্ত ফ্যানের গতি আরো বাড়িয়ে দেয়। ফ্যানের আওয়াজ যেনো পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল কে থামিয়ে দেয়। শুরু হয় শূন্যতা…! যেনো এই পৃথিবীতে আমার কোথাও কেউ নেই, সবকিছুই যেনো শেষ হয়ে গেছে, যেনো আমি কী হারিয়েছি, যেনো অনেক কিছুই পাওয়ার বাকী, নিভৃতে মনের মধ্যে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আমি নীরবে প্রার্থনায় নিমগ্ন হয়ে পড়ি। অনতিদূরে ছুটে চলা ট্রেনটার সজোরে চিৎকার আমার হৃদয়ের সমস্ত তারগুলো যেনো টেনে টেনে ছিঁড়ে নিয়ে যায়। বুকের গহীনের শূন্যতা আরো বহুগুণ বেড়ে যায়। …আস্তে আস্তে সব কিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে…আস্তে আস্তে কোলাহল বাড়তে থাকে… আবার ব্যস্ত হয়ে পড়ি ব্যস্ত নগরীতে ব্যস্ততম জীবনে।

ব্যস্ত নগরীতে ব্যস্ত সময়ে চোখ আর মন তোমার কথা বলে, নিশীথ রাতের কাব্য যেমন মায়াবী সুরে বাজে/ ঠিক তেমনি করে। ঠিকরে পড়া আলোক এ যেন সয় না/এ অন্ধকার ভালবাসে, ঠিক তোমার মত করে। কবে যেন নাম না জানা কবিতায় পড়েছিলেম এ চোখ, যেন বিনিদ্র ক্লান্ত বিনোদিনীর মত/একাকী নিশ্চুপ। আঁধারের গভীর অন্তরালে-কোন না বলা কষ্ট গোপন করে? যেন কোনদিন তুমি উজ্জ্বলতায় ভাসনি, অথবা ভুলেই গেছ মন ভোলানো হাসি হেসে ,আবার কবে তোমার ইচ্ছে হবে বল/দুচোখ ভরে হাসতে ভালবেসে? এক দৃষ্টিতে কত কিছুই না বলে গেলে, আরও কত কথা যেন তোমার বলা বাকি, তুমি আঁধারের মাঝে একা পথে হেঁটে চল, তোমার সঙ্গী তোমার ঐ চোখ ।

এইযে সুফিকে নিয়ে মনের মাঝে এতো ভাবনা এতো কথা। সুফি নাটোরের লালপুরের মেয়ে ৷ পড়াশোনা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিরামিক এবং ভাস্কর্য নিয়ে। তার সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকে।

কী শান্ত লাবণ্যময় হিরণবর্ণ দেহ তোমার। কেশগুচ্ছ উপচে পড়ছে তাঁর দৃঢ় সুগঠিত কোমর পর্যন্ত। তাঁর দীপ্ত মুখমণ্ডল, ঘন আঁখিপল্লব, বাঙ্ময় দুটি হাত। একটা মানুষে মুখের হাসি কতটা মিষ্টি কত বেশি সুন্দর হতে পারে, কতটা শৈল্পিক, কতটা সৌন্দর্য, কতটা মায়া, কতটা ভালোবাসা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা তোমাকে না দেখলে বুঝতাম না। তা হয়তো তোমার জানার বাহিরে। কিন্তু আমি জানি ! পৃখিবীতে কিছু মানুষের জন্মই হয় যাদের মুখে সবসময় হাসির ঝিলিক লেগেই থাকে। তেমনি একজন এই তুমি । এই পৃথিবীর সব ছন্দ, উপমা ব্যর্থ হয়ে যাবে তোমার ঘন কালো লম্বা চুলের কাছে। তোমার তুলনা তুমি নিজেই ! তোমার দুই চোখের দিকে তাকিয়ে কোন পলক না ফেলেই এক যুগ কাটিয়ে দিতে পারবো তা কি তুমি জানে ? তোমাকে পাওয়ার অপেক্ষা না পাওয়া পর্যন্ত ! সেটা যদি হয় চিরকাল, তবে আমি রাজি।

কি অপরূপা তুমি, তোমার রূপের সৌন্দর্যে আমি বিমোহিত, তুমি বড্ড রূপের অধিকারী, তোমার ঢেউয়ের দোলায় আমার হৃদয় স্পন্দিত। প্রকৃতি -তোমার সবুজের আচ্ছাদনে, তুমি অনন্যা, তুমি অতুলনীয় এক রূপক। আর আমি, দাঁড়িয়ে দেখছি সেই তোমার অপরূপ মায়া, করছি সৌন্দর্যের অবলোকন। মাঝে মাঝে মনে হয়, তোমার পানে যদি উড়ে যেতে পারতাম, কখনও ঢেউয়ের তালে গা ভাসিয়ে দূরপ্রান্তে, প্রকৃতির রাণী সেজে বসতাম। মনের যত কষ্ট সব ছুঁড়ে দিতাম-হাসিমুখে প্রাণের উচ্ছ্বাস জাগাতাম।

মনটা আমার বাঁধন হারা চায় না বন্দী থাকতে, পাখির মতো ডানা মেলে চায় যে শুধু উড়তে। আকাশের ঐ মেঘ হয়ে সে চায় শুধু ভাসতে, রংধনুর সাতটি রঙে নিজে কে রাঙাতে। কখনও চায় সবুজ হয়ে পাতায় পাতায় খেলতে, শিশিরের মুক্তো দিয়ে নিজেকে নিজে সাজাতে। কখনও চায় রাখালের বাঁশি হয়ে বাজতে। সেই সাথে তোমার পাশে সবসময় থাকতে ।

এই বিশ্বজগতের সমস্ত সৌন্দর্যের একীভূত রূপ আমার সীমিত দৃষ্টিশক্তির সমস্ত সীমারেখা লঙ্ঘন করে যায়। হয়তো তোমার অনুভবে আমার জীবনীশক্তি এক শ গুণ ক্ষমতা পাবে। বহু আগে, বহু দূরে চলে যাওয়া আত্মশক্তি গুলো নতুন জীবন পাবে। ভরা রৌদ্রে সারা দিন হাঁটার পরও এক শ মাইল দৌড়ানোর মনোবল পাবে।

তোমার পক্ষে আমাকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব, কিন্তু তোমার জন্য আমার মনের একান্ত অনুভূতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবে কে ?

মন চাইলে কি আর সব হয়! হয় না তো ! মনে মনে মন ছোঁয়া যায় !

মনে মনে হাত ছোঁয়া যায়- মনে মনে তোমার বুকে মাথা রেখে -দীর্ঘ রজনী প্রেমের আকুলতায়- কাটিয়ে দেয়া যায়- থাকো না মনে, এমনি করে ভালোবেসে এক আকাশ প্রেম নিয়ে। জানো বাস্তবিক কাছে আসাটা হয়তো তৃপ্তির কিন্তু সাময়িক সুখের/ আর মনের কাছে আসাটা চিরদিনের স্থায়ী ।

“তুমি রবে আমার মনে আমারই প্রাথর্নায়

এইটুকু মনে রেখ, ভালোবাসি সব সময় ” । ভালো থেকো সবসময় ।

লেখকঃ কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী

১ thought on “আনমনে তোমায় ভাবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *