নিভৃত নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

নিভৃত নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন নামের এক ‘সুপারস্টার’ এর বিচরণ যিনি তাঁর অভিনয় দিয়ে কোটি মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন ।

:: ফজলে এলাহী ::

বাংলা চলচ্চিত্রের গত শতাব্দীটা ছিল গুণী মানুষদের আলোয় আলোকিত । সেই সময়ের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রগুলো ছিল সাধারন মানুষদের কাছে দারুন জনপ্রিয় আর ছবির মানুষগুলো ছিলেন এক একজন স্বপ্নের নায়ক-নায়িকা। সেই গত শতাব্দীর সোনালি যুগের দুই দশক ছিল নিভৃত নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন নামের এক ‘সুপারস্টার’ এর বিচরণ যিনি তাঁর অভিনয় দিয়ে কোটি মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন । জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকায় যিনি সেই সময়ে ‘সুপারস্টার’ খেতাব পেয়েছিলেন চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষদের কাছ থেকে।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইলিয়াস কাঞ্চন নামটি সব শ্রেণির দর্শকদের কাছে পরিচিত একটি নাম । যার ছবি দেখেনি এমন দর্শক পাওয়া যাবে না । যিনি খুব ধার্মিক রক্ষণশীল পরিবার থেকে চলচ্চিত্রে জড়িয়ে ছিলেন। কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় আশুতিয়াপাড়া গ্রামে ১৯৫৬ সালের ২৪ শে ডিসেম্বর তারিখে জন্মগ্রহন করেন । ইলিয়াস কাঞ্চনের পিতার নাম হাজি আব্দুল আলী, মাতার নাম সরুফা খাতুন। কবি নজরুল সরকারী কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এইচ এস সি পাস করেন এবং ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ১৯৭৬ সালে ভর্তি হোন। চলচ্চিত্রে জড়ানোর পর আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ঠিক মতো শেষ করতে পারেননি ।

১৯৭৭ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ সুভাষ দত্তের ‘বসুন্ধরা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন । সুভাষ দত্ত কাঞ্চনের একটি মঞ্চ নাটকের অভিনয় দেখে তাঁকে ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন । বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনে পত্রিকা ‘চিত্রালি’ তে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন চলচ্চিত্র অভিনয় শুরুর পর অনেকদিন উনার বাবা, চাচা’রা উনার সাথে কথা বলেনি । তবুও কাঞ্চন চলচ্চিত্রে অভিনয় করা থেকে সরে আসেননি। এক সময় পরিবার মেনে নিলো তাঁর চলচ্চিত্রের অভিনয় জীবন।

চলচ্চিত্রে শুরু থেকে ইলিয়াস কাঞ্চন নিজের মেধা ও অভিনয় দিয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যান এবং ধীরে ধীরে নিজেকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যান । সেই শৈশবে পরিবারের সাথে সিনেমা হলে ছবি দেখতে গিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে আমার পরিচয়। যতদূর মনে পড়ে ‘বাল্যশিক্ষা’ অথবা ‘আঁখিমিলন’ ছবিতে তাঁকে আমি প্রথম দেখি যেখানে ছিলেন সুচরিতা। সেই ছবি দুটির গানগুলো দারুন ভালো লেগেছিলো ‘খোদা তোমার এ দুনিয়ায়/ আমি এক এতিম অসহায়’ এবং ‘আমার এ গানখানি যদি ভালো লাগে / কোনদিন ভুলে যেও না ( বাল্যশিক্ষা)’ আমার গরুর গাড়ীতে বউ সাজিয়ে’ ‘কথা বলবো না বলেছি'( আঁখি মিলন) শিশু মনেই ভালো লেগে যায় । মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘আঁখিমিলন’ ছবিতে কাঞ্চনকে বেশি প্রথম আমার ভালো লাগে । সেই ছবির ‘আমার গরুর গাড়ীতে’ গানটি ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় গান। কেউ যখন আদর করে বলতো একটা গান শুনাও তো তখনই ‘’আমার গরুর গাড়ীতে’’ গানটি শুনিয়ে দিতাম । এরপর কাঞ্চনকে দেখেছি বহু ছবিতে কখনও রোমান্টিক নায়ক , কখনও প্রতিবাদি যুবক, কখনও পুলিশ অফিসার , কখনও রাজারকুমার, কখনও ট্যাক্সি ড্রাইভার সহ নানা রুপে , নানা চরিত্রে কাঞ্চনকে দেখেছিলাম আর সব রুপেই কাঞ্চন নিজেকে দারুন ভাবে মিশিয়ে দিয়ে মন উজাড় করে অভিনয় করতেন । ইলিয়াস কাঞ্চন পর্দায় এলেই দর্শকদের হাততালি যেন আর থামে না । আজহারুল ইসলাম খান এর ‘সহযাত্রী’ ও শিবলি সাদিক পরিচালিত ‘ভেজা চোখ’ ছবিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যু হলভর্তি দর্শকদের সাথে আমার কিশোর মনও মেনে নিতে পারেনি । খুব খারাপ লেগেছিল কাঞ্চনের মৃত্যু দেখে । ‘দায়ী কে’ ছবিতে কাঞ্চনকে প্রথম মনে হয়েছিল নায়ক হয়েও যেন তিনি পার্শ্বচরিত্রের একজন অভিনেতা ।পরে বুঝলাম যে আসলেই ‘দায়ী কে’ ছবিতে তাঁর করার কিছু ছিল না, পুরো ছবিটাই যে এ টি শামসুজ্জামান নামক এক অসাধারন অভিনেতার সেরা অভিনয় সমৃদ্ধ একটি ছবি যে কারনে এ টি এম শামসুজ্জামান জীবনের প্রথম ও শেষবারের মতো নায়ক না হয়েও ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’র পুরস্কার লাভ করেন। ওয়াসিম, ফারুক এরপর বাংলা ফোক ফ্যান্টাসি ছবিতে কাঞ্চন নিজেকে সেরা হিসেবে প্রমান করেন । তাঁর অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’’ ছবিটি আজো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির রেকর্ড নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ।সেই ছবির পর কাঞ্চন ফোক ছবির অপরিহার্য অভিনেতা হয়ে উঠেন ।

বাংলা চলচ্চিত্রের অনেক জনপ্রিয় গানের কথা মনে হলেই ভেসে উঠে ইলিয়াস কাঞ্চনের কথা কারন সেইসকল গানে পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন । ‘আমার গরুর গাড়ীতে বউ সাজিয়ে’, ‘কথা বলবো না , বলেছি’, ‘’আজ রাত সারারাত জেগে থাকবো ‘, ‘ সত্য কি? মিথ্যে কি?’, ‘ পৃথিবীর যত সুখ ’ ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘ তুই তো কাল চলে যাবি’, ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘তুমি চেনো কি আমারে’, ‘আমরা বাপবেটা ৪২০’, ‘আর যাবো না আমেরিকা’, ‘আমার মনের আকাশে আজ জ্বলে শুকতারা’, ‘বেলি ফুলের মালা দিয়ে’, ‘আমি আজ কথা দিলাম আই লাভ ইউ’, ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয় ‘, ‘আমার এ গান তোমারই জন্য’ , ‘আমরা দুজন চিরসাথী’, ‘সবার জীবনে প্রেম আসে’ ..এমন অসংখ্য গান আছে যা মনে হলেই ইলিয়াস কাঞ্চন এর কথা মনে আপনার পরবেই । অভিনয় জীবনে সহশিল্পী হিসেবে অনেকের সাথেই অভিনয় করেছিলেন কিন্তু চম্পা ও দিতি’র সাথে কাঞ্চনের জনপ্রিয়তা বেশি ছিল । বিশেষ করে ৮০র দশকের শেষ ভাগ থেকে ৯০ দশকে চম্পা ও দিতির সাথে কাঞ্চনের ছবিগুলো ছিল ব্যবসায়িক সফলতায় ভরপুর।যদিও অভিনয় জীবনের সেরা ব্যবসা সফল ছবিটি ছিল চিত্রনায়িকা অঞ্জুর সাথে তারপরেও অঞ্জুকে ছাপিয়ে দর্শকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় ছিল কাঞ্চন- চম্পা ও কাঞ্চন – দিতি জুটির ছবিগুলো ।

অভিনয় জীবনে কাঞ্চন ২৫০ টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছিলেন । ৯০ দশকের শুরুতে শিবলি সাদিক পরিচালিত ‘’ মাটির কসম’’ ছবিটা ছিল তাঁর অভিনয় জীবনের ১০০ তম ছবি । কাঞ্চনের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো – বসুন্ধরা, সুন্দরী, বাল্যশিক্ষা, আঁখি মিলন , কুসুমকলি, আদেশ , সেই তুফান , দয়ামায়া, হুঁশিয়ার , রাধাকৃষ্ণ, অভিযান, নীতিবান, স্বর্গ নরক , ছেলেকার, সহযাত্রী, সহধর্মিণী , প্রতিরোধ , দায়ী কে, ভাই বন্ধু, ভেজা চোখ , বেদের মেয়ে জোছনা, আয়না বিবির পালা , প্রেমের প্রতিদান , দংশন, জন্মদাতা, অচেনা, বাপবেটা ৪২০, মা মাটি দেশ, প্রেমযমুনা,গাড়ীয়াল ভাই, মাটির কসম , চাকর, মহাগ্যাঞ্জাম, আমার আদালত, আবদার, সৎ মানুষ , ত্যাগ, অন্তর জ্বালা, স্বার্থপর, এই নিয়ে সংসার,আসামি গ্রেফতার, বিক্রম, পাষাণ, ভয়ংকর সাত দিন , ভাংচুর , স্বজন, বেঈমানি, অবলম্বন, আত্মবিশ্বাস, বেনাম বাদশা, বাদশা ভাই, অগ্নিসাক্ষর, অজানা শত্রু,বাঁশিওয়ালা, সিপাহী, বিদ্রোহী কন্যা, বেপরোয়া ,আত্মত্যাগ, চরম আঘাত, অন্ধ ভালোবাসা, আদরের সন্তান, দুর্নীতিবাজ, জবরদখল , বদসুরত, সহ অনেক অনেক চলচ্চিত্র ।

ইলিয়াস কাঞ্চনকে যখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ‘সুপারস্টার’ বলা হতো (যদিও কাঞ্চন কোনদিন তা নিজের মুখে বলেননি/ বলতেন না] । কাঞ্চন যখন সুপারস্টার তখন তিনি ‘’বেদের মেয়ে জোছনা’’ চলচ্চিত্র দিয়ে এমন একটি রেকর্ড করলেন যা আজো কোন নায়কের কোন চলচ্চিত্র তা ভাঙতে পারেননি । কাঞ্চন একাধারে তখন জনপ্রিয় অভিনেতা/ নায়ক তার উপর একজন প্রযোজকও ছিলেন। কিন্তু এরপরেও কাঞ্চনের মাঝে কোন পরিবর্তন কেউ কোনদিন পায়নি। সুপারস্টার কাঞ্চন তখন যেমন একক চলচ্চিত্র দিয়ে পর্দা কাঁপাতেন ঠিক তেমনি একাধিক তারকা সমৃদ্ধ ‘মাল্টিস্টার’ চলচ্চিত্রগুলো দিয়েও পর্দা কাঁপাতেন। কাঞ্চনের তখনকার কয়েকটি চলচ্চিত্র ছিলো ‘অচেনা’, ‘’বন্ধন’’, ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’, ‘শর্ত’, ‘দুর্নাম’, ‘দংশন’, ‘সিপাহী’, ‘বাদশা ভাই’, ‘বাপ বেটা ৪২০’, ‘মা মাটি দেশ’, ‘পাষাণ’, ‘বীর বিক্রম’, ‘বিদ্রোহী কন্যা’, ‘দুর্নীতিবাজ’ ‘দুর্জয়’ ‘মহৎ’, ‘এই নিয়ে সংসার’, ‘ চরম আঘাত’ , ‘ভাংচুর’, ‘স্বজন’, ‘আসামী গ্রেফতার’সহ আরও অনেক। যে চলচ্চিত্রগুলোর মাঝে কাঞ্চন একক নায়ক ছিলেন না। সেগুলোতে ছিলেন রাজ্জাক, আলমগীর, জসিম, মান্না, বাপ্পারাজ, আলিরাজ , রুবেল, সানী , অমিত হাসান সহ প্রবীণ নবীন জনপ্রিয় নায়কেরা । কাঞ্চনের তখন যে দাপট ছিল চাইলে তিনি একক নায়ক ছাড়া চলচ্চিত্র নাও করতে পারতেন এবং প্রযোজক , পরিচালকরা তা মানতেও বাধ্য থাকতো। কারণ , একক নায়ক হিসেবে কাঞ্চনের চলচ্চিত্রের চাহিদা সর্ব মহলের কাছে স্বীকৃত ছিলো । অথচ কাঞ্চন কোনদিন সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি । কাঞ্চন একক নায়ক হিসেবে যেভাবে দারুন সফল ছিলেন এবং পর্দায় যেভাবে থাকতেন ঠিক অন্য তারকাদের সাথেও কাঞ্চন নিজেকে মেলে ধরতেন।

কাঞ্চনের কাছে নিজেকে ‘সুপারস্টার’ ইমেজে রাখার চেয়ে বেশি গুরুত্ব ছিল সব শ্রেণীর দর্শক, প্রযোজক, পরিচালকদের চাহিদার গুরুত্ব দেয়া এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া । এমনকি ইলিয়াস কাঞ্চন সেই সময়ে ‘নাম্বার ওয়ান কাঞ্চন ’, ‘বস নাম্বার ওয়ান ’, ‘হিরো নাম্বার ওয়ান ’ কিংবা ‘ হিরো দ্যা সুপারস্টার’ এই টাইপ নামের কোন চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেননি । সেই কারণে ‘সুপারস্টার ’ তকমাটা যখনই কোন নায়ককে আজ বলা হয় তখনও সত্যিকারের চলচ্চিত্রপ্রেমি সবার কাছে ইলিয়াস কাঞ্চনের মুখটি ভেসে উঠে । এখন আমার কথা শুনে আজকের কেউ যদি মনে করে থাকে ইলিয়াস কাঞ্চন কোন ‘’সুপারস্টার’’ ছিলো না, সব মিথ্যা বানোয়াট ! তাহলে তাকে বুঝানোর কিছু নেই , কারণ আমার কথা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য সেই সময়কার লক্ষ লক্ষ দর্শক আজো জীবিত আছে যারা আমার কথার দ্বিমত পোষণ করতে পারেন উপযুক্ত উদাহরন প্রমাণসহ । আজকে বাংলা চলচ্চিত্রে যাকে / যাদের সুপারস্টার বলা হয় তারা কেউই ‘সুপারস্টার’ তকমাটা লাগানোর যোগ্য নন । শুধু নায়ক শুন্যতার সময়ে বছর বছর কয়েকটি তথাকথিত ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র দিলেই কেউ ‘সুপারস্টার’ হয়না , সুপারস্টার হতে হলে পর্দা ও পর্দার বাহিরেও একজন ভালো মানুষ হতে হয়।

ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে ৯০ দশকের শুরুতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারাকে হারানোর পর থেকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামের সামাজিক সংগঠন গঠন করে নিরাপদ সড়কের দাবীতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেন এবং এখনও নিজেকে সেই আন্দোলনের সাথে জড়িত রয়েছেন যা শ্রেনীর মানুষের কাছে আজ আলোচিত একটা আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন তাঁর অভিনয় জীবনেই নিজেকে কিংবদন্তীর পর্যায়ে নিয়ে গেছেন । বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের সেরা মানুষগুলোর অন্যতম একজন তিনি যার কাজগুলো তাঁকে চিরস্মরণী রাখবে এবং যতদিন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র থাকবে ততদিন ইলিয়াস কাঞ্চন নামটি থাকবে । বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চন যেন সত্যিই এক ‘সুপারস্টার’ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *