বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন সেসব সাংবাদিক

বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন সেসব সাংবাদিক

:: তাহসিন আহমেদ ::

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) প্রতিষ্ঠার পর সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বড় একটি অংশ দলে দলে বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন। যাদের মধ্যে ছিলেন মতিউর রহমান (প্রথম আলো), ইকবাল সোবহান চৌধুরী (অবজারভার), গিয়াস কামাল চৌধুরী (খবরপত্র), রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (নিউজ টুডে), আলমগীর মহিউদ্দিন (নয়া দিগন্ত), আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (ইত্তেফাক), কেজি মোস্তফা (মুক্তকণ্ঠ), জগলুল আহমেদ চৌধুরী (বাসস), রশিদ তালুকদার (আলোকচিত্রী, ইত্তেফাক) আজিজ মিসির (বাংলার বাণী)।

সাপ্তাহিক হলিডে সম্পাদক এনায়েতউল্লাহ খান, মর্নিং নিউজ সম্পাদক এবিএম মুসা,  দৈনিক বাংলার সহ-সম্পাদক কবি শামসুর রাহমান,  বিএফইউজে সভাপতি নির্মল সেন এবং ডিইউজে সভাপতি কামাল লোহানী, সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক পূর্বদেশের আবু জাফর শামসুদ্দীন বাকশালে যোগ দেননি।

বাকশাল মেনে নিতে পারেননি বলে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এবং জেনারেল এমএজি ওসমানী পদত্যাগ করেছিলেন।

১৯৭৫ সালের ২৩ মে বাকশালে যোগ দেন ২২৪ জন সাংবাদিক। এরপর যোগ দেন আরও ১৫০ জন। ১১ জুন যোগ দেন ৩০৬ জন সংবাদকর্মী। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল একযোগে দৈনিক ও সংবাদ সংস্থার ৯ জন সম্পাদকের যোগদানের ঘটনা। যোগদানকারী ৯ জন সম্পাদক ছিলেন অবজারভার-এর ওবায়দুল হক, পূর্বদেশ –এর এহতেশাম হায়দার চৌধুরী, দৈনিক বাংলার নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী, সংবাদ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বজলুল রহমান, মর্নিং নিউজ-এর শামসুল হুদা, বাসস-এর প্রধান সম্পাদক জাওয়াদুল করিম, বাংলাদেশ টাইমস ও বাংলার বাণীর নির্বাহী সম্পাদক শহিদুল হক, বাংলাদেশ প্রেস ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রধান সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং ইত্তেফাক-এর আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

পরদিন যোগ দেয়া সংবাদিকদের মধ্যে মর্নিং নিউজ-এর ৬৮ জন, আজাদ-এর ৫২ জন, ইত্তেফাক-এর ৪৮ জন, সংবাদ-এর ৪৩ জন, পূর্বদেশ-এর ২৪ জন, আবদুল গাফফার চৌধুরী সম্পাদিত জনপদ-এর ২০ জন ও সাপ্তাহিক চিত্রালীর ৭ জন।

১৬ জুন ৪টি দৈনিক, ১২২টি সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা ছাড়া দেশের সকল পত্রপত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়। বাকশালে যোগ দেয়া সম্পাদকদের মধ্যে নুরুল ইসলাম পাটোয়ারীকে ইত্তেফাক, ওবায়দুল হককে বাংলাদেশ টাইমস এবং এহতেশাম হায়দার চৌধুরীকে দৈনিক বাংলার সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

যারা বাকশালে যোগ দেননি

সাপ্তাহিক হলিডে সম্পাদক এনায়েতউল্লাহ খান, মর্নিং নিউজ সম্পাদক এবিএম মুসা,  দৈনিক বাংলার সহ-সম্পাদক কবি শামসুর রাহমান,  বিএফইউজে সভাপতি নির্মল সেন এবং ডিইউজে সভাপতি কামাল লোহানী, সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক পূর্বদেশের আবু জাফর শামসুদ্দীন বাকশালে যোগ দেননি।

বাকশাল মেনে নিতে পারেননি বলে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এবং জেনারেল এমএজি ওসমানী পদত্যাগ করেছিলেন।

১ thought on “বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন সেসব সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *