শহীদুল জাহীদের কবিতা

শহীদুল জাহীদের কবিতা

এ কোন দুঃখ আমার!
-শহীদুল জাহীদ

অন্ধকারে!!
আমি আঁধারে হারাতে চেয়েছিলাম।
অনুভব করেছিলাম আঁধারের শীতল ভয়ংকর ছুরি,
দৈত্য দানবের পদচারনা,
কঙ্কালের বিস্তার- সে এক গহীন অরণ্য;
যে কেউ ভড়কে যায় তা দেখে।

কিন্তু সেদিন আমার ছিল প্রচণ্ড শক্তি,
সাহস আর চাপা উত্তেজনার অপূর্ব সমন্বয়,
আমি আমাকে দেখে আশ্চর্য হলাম,
ভাবি- মন্দ কি?

হটাত চমকে দেখি- কতগুলো অমানুষ-
আমার মাঝে খিলখিলিয়ে হাসছে।
অন্ধকারকে চুমু খেতে গেলাম, পেলাম না।
ওদের রাজ্যে আমি একাকী- বুঝলাম।
মনে হোল জানিয়ে দিই সবে, ওদের পাপাচার,
বিদ্রোহে, বিপ্লবে বিষিয়ে তুলি, আর
ঘরছাড়া করি ওদের।

কিন্তু কতগুলো জন্তু আমাকে খাবলে খেতে লাগলো,
ধীরে ধীরে আমি আমার প্রতিটি অঙ্গ হারালাম,
অশরীরী হয়ে আমার স্থান হল – বাতাসে।
বাতাসে আমি হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম।
ভাবলাম, – বিস্তৃত বাতাসে কেউ জানবে না
আমার পরাজয়ের কাহিনী।
এখানে আমি স্বপ্ন গড়ব নতুনরুপে,
আলো- আঁধার, দৈত্য- পরী, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন-
সব মিলে থাকবে আমার রাজ্যে।

কিন্তু গামা রশ্মিতে আমার পরাজয়ের কাহিনী,
আমার আঁধার রাজ্যের অতীত,- সবে পড়ে নিলো।
তাড়িয়ে দিল আমাকে তারা- কিছুটা জোড় ছিল তখনো-
তাই কিছুটা প্রতিবাদেই- ওরা আমাকে প্রাণহীন করল।
আমার নিথর দেহ – অশরীর? লুটিয়ে পড়ল,- মাটিতে।

লজ্জায় আমি মাটিতে, পৃথিবীর কেন্দ্রে হারাতে চাইলাম।
কেউ কেউ ভয় দেখাল সেখানকার উত্তপ্ত লাভার।
মমতায় আমাকে যেতেই দিল না, স্থান দিল সবচেয়ে নিরাপদে।
চলার পথে পুনরায় জাগি এ মাটির উপর।
এখানে আমি কতকিছু দেখি, – যাদের দেখেছি আমি
আঁধারে, বাতাসে,- পথ হাতড়াতে, পরাজিত হতে,
পরাজিত করতে ওদের রাঙ্গানো হাত,-
আমি ঠিকই চিনেছি ওদের।

একারণেই ওরা গলাটিপে মারতে চায়,
করতে চায় দৈত্যের খোরাক,
আমার চোখ দুটো কেড়ে নিয়ে বসাতে চায় আঁধারের দলা,
জিভ কেটে, জীবনী হরণ করে, আমাকে করতে চায়
নির্বাক!!

আমি নির্বাকে তাই দেখি সত্যের সমাহার।
আমার সত্যের রাজ্যে আজ ওরা স্বাধীন।
সুখ আমার – ওদের স্বাধীনতায়।
দুখ আমার,- বলতে পারিনা,- ওরা অমানুষ,
অমঙ্গল, অপশক্তি আর আঁধারের ছায়া।
আমাকে করেছে ওরা নীরব সাক্ষী শুধু।

তবুও চলতে হবে ওদের সাথেই?
বলতে পার,- এ কোন দুঃখ আমার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *