আমাদের একজন মতিন স্যার ছিলেন

:: আবু রায়হান মোঃ সোহেল ::

রাজনীতি যদি জনকল্যানের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীত মহান ব্রত হয়ে থাকে তবে তার সার্থক উদাহরন হচ্ছেন এম এ মতিন স্যার।  

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে ও যখন দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে আমাদের ভোটাধিকার হরন করে নির্লজ্জ বেহায়ারা এমপিগিরি ফলায়, তখন গর্বের সাথে বলতে পারি এম এ মতিন স্যার সত্যিকারে জন রায়ে ধানের শীষ প্রতীকে চার চারবার চাঁদপুর-৫ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।  এর পূর্বে ছিলেন সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ছিলেন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান।

ধর্নাঢ্য বনেদি পরিবারের সন্তান, প্রাক্তন এমএলএ খান সাহেব জুনাব আলী মুন্সীর সুযোগ্য সন্তান এম এ মতিন স্যার হাজীগঞ্জ পাইলট হাইস্কুলে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তৎকালীন সময়ে বোয়ালজুড়ি খাল খনন ও স্বনির্ভর গ্রাম কর্মসূচির প্রোগ্রামে হাজীগঞ্জে আসলে এমএ মতিন স্যারের দক্ষ ব্যবস্হাপনায় একটি সফল ও সার্থক মিটিং উপহার দিয়ে জিয়াউর রহমান এর নজরে আসেন।  পাকা জহুরি জিয়াউর রহমান খাঁটি সোনা চিনতে ভুল করেন নি, তিনি এমএ মতিন স্যারের যোগ্যতা, দক্ষতাকে মূল্যায়ন করে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দেন, সেই থেকে শুরু।  একে একে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হাজীগঞ্জ -শাহরাস্তীর মানুষকে তিনি তার ধ্যান জ্ঞান সাধনায় পরিনত করে নেন জনগনও তাঁর সন্তান এমএ মতিন কে নিরাশ করননি কখনও।  বারবার তাঁকে তাদের প্রতিনিধি করে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছে।

রাজনীতি যেখানে হয়ে পড়েছে আদতে নিজের আখের গোছানো, একবার কোন রকম এমপি হতে পারলে আগামী সাতপুরুষের দেশে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়া।  এমপি হবার আগে যাদের নির্দিষ্ট পেশা বলতে কিছু ছিলনা, নমিনেশন পেপারে মাছ ব্যবসা, আলু পটলের ব্যবসা লেখে ফরম পূরন করা ব্যাক্তিটি একটার্ম এমপি মেয়াদ শেষ না হতেই যখন আলাউদ্দিনের চেরাগের মত হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যায় তখন এমএ মতিন স্যার ছিলেন স্রোতের বিপরীতে দাড়ানো ব্যাতিক্রম কিংবদন্তী।  চারবার সংসদ সদস্য থেকেও নিজের কিংবা পরিবারের জন্য কিছু করেন নি।  তাঁর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বর্তমান বাজার মূল্যে শতকোটি টাকার সম্পদ রাজনীতির পিছনে ব্যয় করে হয়েছেন নিঃস্ব।  

তাঁর সততা, নিরঅহংকার, নির্লোভ মানসিকতা সর্বোজন বিধিত।  

মতিন স্যারের সততা নিযে তার চরমতম প্রতিপক্ষও কখনো প্রশ্ন তোলতে পারেনি।

জিয়ার হাত থেকে পাওয়া ধানের শীষকে শূন্যে থেকে এ অঞ্চলের প্রতিটি ঘরের প্রিয় প্রতীকে পরিনত করার কারিগর স্যারের সাংগঠিক দক্ষতাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা হয়েও সব দল, ধর্ম, বর্নের মানুষের কি আপনজনই না ছিলেন স্যার।  দল মতের উর্দ্বে উঠে মানুষকে এতটা নিবিড় ভাবে ভালবাসতে পারা, তাদের সুখকে নিজের সুখ, তাদের দুঃখকে নিজের দুঃখে পরিরনত সবাই করতে পারেনা।  আবার সবাই জনগনের সত্যিকার ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেনা।  মতিন স্যার তার সবই করতে পেরেছিলেন।

হাজীগঞ্জ শাহরাস্তীর প্রতিটি পরতে রয়েছে মতিন স্যারে উন্নয়নের ছোঁয়া।  এমন কোন স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট পাওয়া যাবেনা যেখানে কিছুনা কিছু মতিন স্যারের হাতে হয়নি।

আজকের হাজীগঞ্জে ধান চাষের স্বয়ংসম্পূর্ণতার পিছনের কারিগর মতিন স্যার।  ইরিগেসনের জন্য বোয়াল জুড়ি খাল, বলাখাল সহ বিভিন্ন জায়গায় জাপান সরকারের অনুদান দেওয়া পাম্প বসিয়ে ধান চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন যার সূফল এখনো আমরা পেয়ে চলেছি।

মতিন স্যারের অনন্য কৃর্তীর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রতিপক্ষকে নিঃশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা না করা।  রাজনৈতিক সহঅবস্হান, স্হিতিশীলতা বজায় রেখছেন আজীবন।  যার সুফল হচ্ছে শুধু চাঁদপুর নয় বৃহত্তর কুমিল্লার মধ্য অন্যতম বৃহৎ বানিজ্যিক শহরে পরিনত হওয় আমাদের প্রিয় হাজীগঞ্জ।  দীর্ঘ সময এমপি থাকা সময়ে কোন ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজীকে প্রশ্রয় না দেওয়া, রাজনৈনিক সহাবস্হান নিশ্চিত করা, শিক্ষা স্বাস্হ্য ব্যবস্হাকে আধুনিকায়ন করা, যার ফলশ্রুতিতে হাজীগঞ্জ পরিনত হয়েছে এ অঞ্চলের বৃহৎ ব্যবসা বাণিজ্যের নগরে।

আজ এই মহান মানুষটির প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী।

আমরা গর্বের সাথে এই মহৎ কর্মপ্রাণ মানুষটিকে শ্রদ্বা ভরে স্মরণ করি।

আগামী প্রজন্মের কাছে বলে যেতে পারবো এ অঞ্চলে একজন সোনার মানুষ ছিলেন, যিনি ক্ষমতার শিখরে থেকেও নিজের সহায় সম্পদ

বিক্রি করে রাজনীতি করে গেছেন, জীনের শেষ বেলায় হযেছেন নিঃস্ব।  কিন্তু তারঁ আর্থিক দৈন্যতার মধ্যেও মানুষকে ভালবাসতে, আপন করে নিতে ভুলে যাননি।  আগামী প্রজন্মের কাছে বার বার বলবো রাজনীতিবদ মানেই অসাধু, জনগনের সম্পদ লোপাটকারী নয়।  হাজীগঞ্জ শাহরাস্তীর সূর্যসন্তান এমএ মতিন স্যার তাঁর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

মানুষকে কিভাবে ভালবাসতে হয়, আপন করে নিতে হয় তার বিনিময়ে মানুষ কিভাবে ভালোবাসার প্রিতিদান উপহার দেয় তা তোমরা এম এ মতিন স্যাররে জীবনী থেকে শিখতে পারো।

আমরা গর্বের সাথে আগামী প্রজন্মের কাছে বলতেই পারি আমাদের একজন মতিন স্যার ছিল।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এমএ মতিন স্যারের ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *