ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আল জাজিরার সাংবাদিক নিহত

:: নাগরিক নিউজ ডেস্ক ::

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে ইসরায়েলি বাহিনী মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে।

৫১ বছর বয়সী আকলেহ আল জাজিরার আরবি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক ছিলেন।

এক বিবৃতিতে আল জাজিরার নিদা ইব্রাহিম বলেছেন, ‘‘এখন পর্যন্ত আমরা যা জানি তা হচ্ছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেছে। আপনারা বুঝতে পারছেন তার সঙ্গে যে সাংবাদিকেরা কাজ করতেন তাদের জন্য খবরটি কতটা শোকের।”

কাঁদতে কাঁদতে নিদা ইব্রাহিম আরও বলেন, ‘‘শিরিন আবু আকলেহ খুব সম্মানীয় একজন সাংবাদিক ছিলেন। ২০০০ সালে ফিলিস্তিনিরা যখন দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরু করে, তখন থেকে আল-জাজিরার হয়ে কাজ করেন তিনি। তবে আল-জাজিরার সাংবাদিক নিহত হওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।‘‘

জেনিন শহরে সামরিক অভিযান চলার সময় গুলির ঘটনা ঘটে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াইয়া লাপিদ বলেছেন, আবু আকলেহর ‘দুঃখজনক মৃত্যুর বিষয়ে যৌথ প্যাথলজিক্যাল তদন্ত করতে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের প্রস্তাব’ দিয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির একজন আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আবু আকলেহ মারা গেছেন।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে বুধবার সকালে তারা জেনিনের এক শরণার্থী শিবিরে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সন্দেহজনক ব্যক্তিরা ইসরায়েলি সেনাদের দিকে গুলি ছোড়েন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীও গুলি ছোড়ে এবং ‘লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করা হয়েছিল’৷ এছাড়া ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয় এবং ‘ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের দ্বারা সাংবাদিকদের আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই ঘটনার নিন্দা করে অভিযোগ করেছেন, “সত্যকে আড়াল করা এবং নীরবে অপরাধ চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলা দখলদারদের নীতিরই অংশ।”

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শিরিন আবু আকলা যখন এই অভিযানের খবর দিতে সেখানে অবস্থান করছিলেন, তখন তার মাথায় গুলি লেগেছিল। খুবই সংকটজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

একই ঘটনায় আরেকজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক, আল জাজিরার প্রযোজক আলি সামুদির পিঠে গুলি লাগে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.