মানবিক কাজের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই ফর চেঞ্জিং বাংলাদেশ’

:: জাওয়াদ মুরসালিন ::

২০২০ সাল। সদ্য এসএসসি পাশ করে সাকিব। স্বেচ্ছাসেবী কাজের প্রতি তাঁর  মানবিকতা গড়ে উঠে  করোনায় মানুষের অসহায়তা দেখে। তাই নিজেদের মতো করে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন বলে কয়েক বন্ধু ভেবেছিলেন একটা সংগঠন গড়ার কথা। ইচ্ছাটা পোক্ত, তবে পরিকল্পনা তখনো ভাসা-ভাসা। নিজেদের হাত খরচ বাঁচিয়ে সাহসের সঙ্গে ৯ জন বন্ধু মিলে কাজ শুরু করে। তারা ৯ জন হলেন- ইয়াজউদ্দিন মুসা, তাহমিদুল আজম, সিনান সাহেল, জাওয়াদ মুরসালিন, রাইয়ান ইসলাম, সৌরভ শীল, রিয়াদ ইকরাম, এমদাদুল হক, মাহাবুব শাহরিয়ার। শুরু হল মানবিক কাজে যুক্ত ‘উই ফর চেঞ্জিং বাংলাদেশ’। যার শুরু পথের ধারে।  

এই সংগঠনের কাজের মধ্যে রয়েছে- 

১/অসহায় গরীব মানুষদের নিত্যপণ্য বিতরন। 

২/অসহায় পথচারী শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা করে দেয়া।

৩/রক্তদান করা।

৪/টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছে না এমন মানুষদের সাহায্য করা। 

৫/এতিমখানায় খাবার, জামা,কাপড় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করা৷ 

৬/কর্মহীন অসহায় মানুষদের ছোটখাটো ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেয়া।

দিনে দিনে অনেক স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত হন তাদের সঙ্গে। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হন জনপ্রিয় ব্যান্ডতারকা অশেজ ব্যান্ডের গায়ক জুনায়েদ ইভান।যুক্ত হন উপদেষ্টা হিসেবে আল আরাফাহ্ ইসলামিক ব্যাংকের চট্টগ্রামের জোনাল হ্যাড মোহাম্মদ আজম আঙ্কেল। অসহায়দের পাশে থাকার পাশাপাশি শুরু করেন স্বেচ্ছায় রক্তদান। শীতার্ত মানুষকে শীতবস্ত্র, বন্যার্তদের সহায়তা, গাছের চারা রোপণের মতো কাজ।সবশেষে সকলের কাছে তার জন্য, তার বন্ধুদের জন্য, তাদের সংগঠনের জন্য দোয়া চান সে এবং সকলে তাদের পাশে থাকবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হাঁটতে শিখতে গেলে একটু-আধটু হোঁচট খেতে হয়। ৯ বন্ধুর সংগঠন গড়ার অভিজ্ঞতা অনেকটা হাঁটতে শেখার মতো। তবে হোঁচটকে শিক্ষা হিসেবে মানেন বলেই সংগঠনের হাল ধরেছেন দৃঢ়তায়, এগিয়ে যেতে সাহসের পাল তুলেছেন ‘উই ফর চেঞ্জিং বাংলাদেশ’।

“আমরা স্বপ্ন দেখি সুন্দর আগামীর”—এভাবেই কথা শুরু হলো সাকিব আল মামুনের  সঙ্গে।অসহায় মানুষদের পাশে থাকা,রক্ত দান করা, মানুষকে স্বাবলম্বী করাসহ উই ফর চেঞ্জিং বাংলাদেশের সামাজিক আরও নানা উদ্যোগ আছে।


করোনার সময় মানুষকে সহযোগিতার পাশাপাশি শুরু করেছে অন্যান্য উদ্যোগের সঙ্গে। ৮ ডিসেম্বর ২০২০, কথা হচ্ছিল সাকিব আল মামুনের সঙ্গে। চট্টগ্রামের এই তরুণ মুঠোফোনে  শোনালেন করোনার উদ্যোগসহ এগিয়ে যাওয়ার কথা। তিনি বললেন, ‘করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকলে সব অফিস কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। সরকার ছুটি ঘোষণা করলে অনেকের চাকরি হারিয়ে যায়। দরিদ্র পরিবারগুলো সংকটে পড়ে। প্রথমে তাদের কিছু পরিবারকে আমরা ১ মাসের খাদ্যসামগ্রী তথা চাল,ডাল,আলু,তেল,ময়দা, ইত্যাদি দিয়ে খাদ্যসহায়তা করি।


চট্টগ্রামের হাল খারাপ হতে থাকলে আবার ৮০ টি পরিবারের মাঝে ৫ দিনের খাদ্যসামগ্রী বিতরন করি। পাশাপাশি মানুষের রক্তের প্রয়োজন হলে এই করোনায় আমরা রক্তদান করি যা অব্যাহত আছে।সাকিব আল মামুন বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন, এমন একজন ব্যক্তি যিনি পেশার দারোয়ান ছিলেন। তাঁকে ১ মাসের খাদ্যসামগ্রী বিতরনের মাধ্যমে আমাদের কাজ শুরু হয়। তারপর টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছে না এমন ২জন মানুষকে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করি। একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে ছোটপরিসরে একটা ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেই। এতিমখানায় এক বেলা করে খাবার বিতরন করি।

লেখকঃ চট্টগ্রামের বেসরকারি একটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *