উদ্যোক্তা হতে চাইলে নিজেকে মূল্যায়ন করুন

:: সোহান রহমান ::

আপনি যদি ব্যবসায়িক পরিবারের না হন, তাহলে উদ্যোক্তা হওয়া সহজ নয় এবং প্রতিটি ধাপে ধাপে আপনাকে বাধার সম্মুখীন হতে হবে। উদ্যোক্তা হওয়ার অর্থ হল আপনি কখনই দায়িত্ব ছাড়বেন না, অন্তত যতক্ষণ না আপনি কিছু সাফল্য পান।

একজন উদ্যোক্তার সপ্তাহান্তের কোন ধারণা নেই, আপনাকে ২৪/৭ কাজ করতে হবে। আপনি যদি কর্পোরেট চাকরিতে থাকেন, আপনি কমপক্ষে সাপ্তাহিক ছুটিটা উপভোগ করতে পরবেন, পরিবারকে সময় দিতে পারবেন ।

একটি স্টার্টআপে এত বেশি কাজ থাকে যে আপনি খুব কমই আপনার পরিবারের জন্য সময় পাবেন , এবং আপনি যদি পরিবারের জন্য কিছু সময় বের করতেও পারেন তবুও আপনি এটি পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন না কারণ আপনার মাথায় আপনার সমস্যাগুলো সারাদিন ঘুরপাক খেতে থাকবে, এটি হতে পারে আপনার ফান্ডের সমস্যা, অথবা প্রোডাকশন কিংবা সাপ্লাই চেইন। এসব নিয়ে ভাবতে গেলে উপভোগ করবেন কখন? প্রেয়সীকে দুই-চার লাইন ভালো কথা কিভাবে শুনাবেন?

ব্যাক্তিগতভাবে মনে হয় যারা মানসিক চাপ সহ্য করতে পারেন না তাদের ব্যবসা নিয়ে চিন্তা না করাই ভালো। উদ্যোক্তা হওয়া মানেই মানসিক চাপে ভরপুর থাকা, আপনার অনেক কিছু করার আছে এবং অনেক পরিকল্পনা আছে, আপনার মন থেকে আপনি পারবেন না আপনার গ্রোথের চিন্তা বাদ দিতে, , আপনাকে সব সময় চিন্তা করতে হবে। এমন কোন ঠাণ্ডা মুহূর্ত নেই, যেখানে আপনি শান্তভাবে বসে চোখ বন্ধ করতে পারবেন, প্রত্যাশা ছাড়া কিছু ভাবতে পারবেন। এইভাবনা গুলো আপনাকে অশান্ত করে ফেলবে। আপনি হয়ে যাবেন যান্ত্রিক, একটা সময় আপনার কোন কিছুই ভালো লাগবে না, আবেগ কাজ করবে না যতক্ষণনা আপনি আপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পরবর্তী ফলাফল পাবেন।

আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হতে চান, তাহলে সতর্ক থাকুন এবং নিজেকে মূল্যায়ন করুন এবং দেখুন যে আপনি একজন উদ্যোক্তা হওয়ার পরে সমস্ত চ্যালেঞ্জ এবং বিচিত্র পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে পারেন কিনা এবং আপনি এটি থেকে কিছু করার জন্য যথেষ্ট সময় ধরে থাকতে পারবেন কিনা, এবং তা আপনি পরিচালনা করতে এবং মোকাবেলা করতে পারবেন কিনা।

আর এখানে থেকেই হয়ত শুরু হবে আপনার শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা। সব সময় কঠোর পরিশ্রম করা এবং চাপের মধ্যে থাকা অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে, আপনার হজম প্রক্রিয়া প্রভাবিত হবে, হঠাৎ আপনি দুর্বল অনুভব করতে শুরু করবেন, আপনার দৃষ্টিক্ষীণ হওয়া কিংবা মাইগ্রেইন পেইন শুরু হবে। এই ধরনের জীবনধারা অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে। নিজের দিকে তাকালেই অনেক কিছু দেখতে পাই।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে, কিছু আনন্দ এবং আনন্দের মুহূর্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যেমন পরিবারের সাথে সময় কাটানো বা টুরে যাওয়া অথবা অবসরটাকে কোনভাবে উপভোগ করা। অথচ এই জায়গাটায় আমরা অনেকভাবে ব্যর্থ, শেষ ঈদের ছুটিতে গিয়ে একটি শুক্রবার কাজ ছাড়া ছিলাম। একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের মনে হয়, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি স্টার্টআপে থেকে েসব অনেকটা স্বপ্ন দেখার মত। উদ্দ্যক্তারা কেবল অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতে এবং সফল হতে চায়, তারা যদি কাজ ছাড়া অন্য কিছু করে তবে তারা মনে করে যে তারা বেকার এবং অন্য সবকিছুকে অনুৎপাদনশীল বলে মনে হয় এবং যে কোনও মূল্যে এটি এড়াতে চেষ্টা করে।

সুতরাং উদ্যোক্তা হওয়া বাইরে থেকে খুব এক্সাইটিং বলে মনে হলেও কিন্তু আপনি যখন একজন হয়ে যান, এটি মোটেও চকচকে হবেনা। আপনার স্টার্টআপকে টিকিয়ে রক্ষতে এবং কাজ চালিয়ে যেতে অনেক শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রম করতে হবে , আপনার স্টার্টআপের জন্য ইতিবাচক দিকগুলি দেখতে শুরু করার আগে নেতিবাচক ব্যাপারগুলো দেখে সেভাবে প্রস্তুত হন ।

” মানুষ যা দেখে- স্টার্টআপ একটি ম্যারাথন এবং এটি স্প্রিন্ট নয়! আমি যা দেখি তা হল স্টার্টআপ প্রতিদিনের ভিত্তিতে একটি স্প্রিন্ট এবং সামগ্রিকভাবে একটি ম্যারাথন।”

আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হতে চান, তাহলে সতর্ক থাকুন এবং নিজেকে মূল্যায়ন করুন এবং দেখুন যে আপনি একজন উদ্যোক্তা হওয়ার পরে সমস্ত চ্যালেঞ্জ এবং বিচিত্র পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে পারেন কিনা এবং আপনি এটি থেকে কিছু করার জন্য যথেষ্ট সময় ধরে থাকতে পারবেন কিনা, এবং তা আপনি পরিচালনা করতে এবং মোকাবেলা করতে পারবেন কিনা।

এরকম হাজারো সমস্যা, হাজারো ব্যর্থতা, হাজারো চেষ্টা করে একজন সফল হন, হয়ত এই যুদ্ধ করতে করতে আমরা একসময় খেই হারিয়ে ফেলি। সফল হলে বাহবা আর ব্যর্থ হলে পাগল!

যখন আমরা কিছু সফল উদ্যোক্তাকে দেখি, আমরা তার সাফল্য এবং তার খ্যাতি দেখি, কেউ এই অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য যে নিরলস পরিশ্রম এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেছেন তা দেখার চেষ্টা করি না। বিনামূল্যে কিছুই আসে না; সামান্য সাফল্য পেতে হলে আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।

লেখকঃ সিইও, ওয়ালরাস বাংলাদেশ লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published.