এসএসসি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর

:: নাগরিক প্রতিবেদন ::

স্থগিত হওয়া চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১৫ সেপ্টেম্বর।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন। 

এ বছর ৩ ঘণ্টার পরিবর্তে প্রতিটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২ ঘণ্টা। বেলা ১১টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অর্থাৎ ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে পরীক্ষার্থীদের।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র, ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলা (আব্যশিক) দ্বিতীয় পত্র, সহজ বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ১৯ সেপ্টেম্বর ইংরেজি (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, ২২ সেপ্টেম্বর গণিত, ২৪ সেপ্টেম্বর পদার্থ বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর গার্হস্থ্য বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), কৃষি শিক্ষা  (তত্ত্বীয়), সংগীত (তত্ত্বীয়), আরবি, সংস্কৃত, পালি, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়), চারু ও কারুকলা (তত্ত্বীয়), ২৬ সেপ্টেম্বর রসায়ন (তত্ত্বীয়), পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ব্যবসায় উদ্যোগ, পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর ভূগোল ও পরিবেশ, ২৮ সেপ্টেম্বর জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ও অর্থনীতি, ২৯ সেপ্টেম্বর হিসাব বিজ্ঞান এবং ১ অক্টোবর উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসমূহ তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ০১ অক্টোবর এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১০ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর শেষ হবে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ০৩ অক্টোবর এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১০ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর শেষ হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ০১ অক্টোবর এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১১ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৮ অক্টোবর শেষ হবে।

শিক্ষা বোর্ডসমূহের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিকভাবে তথ্যাদি আদান-প্রদান করবে।

সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। পরীক্ষা উপলক্ষে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২০ দিন দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। তবে পরীক্ষার কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।’ 

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেক পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী একটা বড় সংখ্যায় থাকে। গত বছর আমরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে মাত্র তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা নিয়েছি। তাতে পাসের হারও অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। সে কারণে এবার অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারেই কম। সে কারণে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।’

এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা ও পালন না করার আহ্বানও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলে সেটি পরীক্ষার্থীদের ব্যাঘাত ঘটাবে। সেটি থেকে সব রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরত থাকতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যত। শিক্ষার্থীদের চাইতে রাজনীতি বড় নয়।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজ চাইলে, সচেতন মানুষ চাইলে, দায়িত্বশীল সুনাগরিক-বিশ্ব নাগরিক গড়তে চাইলে, রাজনৈতিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় রাজনীতি থাকবে কি থাকবে না, তা সেই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু কোনো স্বাভাবিক-সুস্থ প্রক্রিয়াকে নিষিদ্ধ করলে সেটির ফলাফলও আবার ভালো হয় না। সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর মোট ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ জন। 

এবার সারাদেশে মোট পরীক্ষা কেন্দ্র ৩ হাজার ৭৯০টি। গত বছর ছিল ৩ হাজার ৬৭৯টি। সে হিসেবে মোট কেন্দ্র বেড়েছে ১১১টি। এ বছর মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৯ হাজার ৫৯১টি। গত বছর ছিল ২৯ হাজার ৩৫টি। সে হিসেবে মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৫৫৬টি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার প্রমুখ।

এ বছর ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১, দাখিলে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ ও কারিগরিতে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ২২ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৪ জন। এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত বছরের চেয়ে প্রায় সোয়া দুই লাখ পরীক্ষার্থী কমেছে।

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা এখনও নেয়া সম্ভব হয়নি। গত বছর এসএসসি পরীক্ষা নেয়া গেলেও এইচএসসিতে শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয় সরকার।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে দ্বিতীয় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করা হয় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি। এ দফায় শিক্ষাঙ্গনে সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকে এক মাস।

২২ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষাঙ্গনগুলো আবার প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে।

২ মার্চ শুরু হয় প্রাথমিকে সশরীরে ক্লাস। টানা দুই বছর বন্ধের পর ১৫ মার্চ প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস শুরু হয়।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর দুই দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করে শিক্ষাঙ্গনের দুয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.