ঐতিহ্য হারাচ্ছে মেরাদিয়া হাট

:: তাহসিন আহমেদ ::

ঐতিহ্যবাহী মেরাদিয়া হাট রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন ২৬নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। ঢাকা সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী এই হাটটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। মেরাদিয়া হাট ঐতিহ্যের এই দীর্ঘ সময় প্রতি বুধবার বসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বিকালের পর সবচেয়ে বেশি জনসমাগম ঘটে। এই হাটটিতে পার্শ্ববর্তী উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন, ডেমরা, সবুজবাগ, বাড্ডা, সাঁতারকুল, দক্ষিণগাঁও, নন্দীপাড়া এলাকার লোকজনসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে হাট-বাজার করে থাকে। এছাড়া ফকিরখালী, ডেমরা, বেরাইদ, ইছাপুরা, রূপগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ থেকে হাট করতে আসেন। এ ছাড়া নাসিরাবাদ, রামপুরা, বনশ্রী, ভুলতা, চনপাড়া, মেরাদিয়া হাটে ব্যবসাসহ বিভিন্ন কাজ করে প্রায় ৩ হাজার পরিবার জীবনযাপন করে। কিন্তু বর্তমানে হাটটি বিভিন্ন কারণে বিলুপ্তির পথে। নগরায়ণের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং বাসস্থানের চাহিদা হাটটির আকার অনেকাংশে ছোট করে ফেলেছে।

ব্রিটিশ শাসনের মধ্যবর্তী সময়ে হিন্দু জমিদার এ হাটটি প্রতিষ্ঠা করেন। জমিদার জানকি বল্লভ ঐতিহ্যবাহী মেরাদিয়া হাটের প্রতিষ্ঠাতা। তবে ঠিক কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা বলা এখন প্রায় অসম্ভব। তখন আশপাশের অনেক দূর পর্যন্ত কোনো বাজার ছিল না। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত এখানে। প্রতি বুধবার দুপুর থেকেই শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা। ভাঙত সন্ধ্যার পর।

মেরাদিয়া হাটের অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো হরেক পদের মিষ্টির সমাহার। মিষ্টির সম্ভারে রয়েছে—বালিশ, রসগোল্লা, চমচম, গজা, দই, লাড্ডু প্রভৃতি। এ ছাড়া মুড়ি, মুড়কি, নিমকি তো আছেই।

ব্রিটিশ শাসনের মধ্যবর্তী সময়ে হিন্দু জমিদার এ হাটটি প্রতিষ্ঠা করেন। জমিদার জানকি বল্লভ ঐতিহ্যবাহী মেরাদিয়া হাটের প্রতিষ্ঠাতা। তবে ঠিক কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা বলা এখন প্রায় অসম্ভব। তখন আশপাশের অনেক দূর পর্যন্ত কোনো বাজার ছিল না। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত এখানে। প্রতি বুধবার দুপুর থেকেই শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা। ভাঙত সন্ধ্যার পর।

ঐতিহ্যবাহী হাটটি বাঁশ এবং শুঁটকির জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। পাওয়া যায় প্রচুর শাক-সবজি আর বাঁশ ও মাটির তৈরি আকর্ষণীয় জিনিসপত্র। এ ছাড়া ভোজনপ্রিয়দের জন্য থাকছে মিষ্টি, জিলাপি, খইয়ের মোয়া, বাতাসা, খুরমা, নিমকি, খাজা ইত্যাদি।

মেরাদিয়া হাটে ব্যবসাসহ বিভিন্ন কাজ করে প্রায় ৩ হাজার পরিবার জীবনযাপন করে। কিন্তু বর্তমানে হাটটি বিভিন্ন কারণে বিলুপ্তির পথে। নগরায়ণের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং বাসস্থানের চাহিদা হাটটির আকার অনেকাংশে ছোট করে ফেলেছে।

বাঁশ ও শুঁটকির জন্য এই হাটের বেশ সুনাম আছে। মেরাদিয়া হাটে নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

হাট কখনো ছোট আবার কখনো তা বনশ্রীর আবাসিক ব্লকের ভেতর পর্যন্ত চলে যায়। বনশ্রী জি ব্লকের আল-রাজী হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে পূর্ব দিকে ফয়জুর রহমান আইডিয়াল স্কুল পর্যন্ত এর বিস্তৃতি।

ঢাকার কয়েকটি বড় বড় কবুতরের হাটের মধ্যে মেরাদিয়ার হাট একটি। এই হাটে বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর পাওয়া যায়। কবুতরের হাটটি মূলত বসে ফয়জুর রহমান স্কুলের সামনে। এখানে কবুতর ছাড়াও হাঁস,দেশি মুরগি বিক্রি হয়।

প্রথমে যেকোন বাস, সিএনজি বা অন্য গাড়িতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ আসতে হবে। এরপর ব্রিজ থেকে সোজা পূর্ব দিকে যে রাস্তাটি বনশ্রীর দিকে গিয়েছে এই রাস্তায় আসতে হবে। রামপুরা ব্রিজ থেকে মেরাদিয়ার হাট আসতে রিকশা ভাড়া লাগবে ২০ থেকে ৩০ টাকা। এছাড়া লেগুনাতে ভাড়া ৫-১০ টাকা। বাসাবো হয়ে আসলে মাদারটেক দক্ষিণ বনশ্রী থেকে হাট পর্যন্ত লেগুনা ভাড়া ১৫-২৫ টাকা। রিকশায় ৬০-৭০ টাকা। খিলগাঁও সিপাহীবাগ থেকে হাটে আসতে চাইলে ভূইয়াপাড়া দিয়ে বনশ্রী আসতে হবে। ডেমরা হয়ে আসলে স্টাফ কোয়ারটার দিয়ে বনশ্রী পর্যন্ত লেগুনা ভাড়া ৩৫ টাকা।

যে বটগাছকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল মেরাদিয়া হাট আজ আর তা তেমন অবস্থায় নেই। দিন দিন ঐতিহ্য হারিয়ে ছোট হচ্ছে হাটের আকার; কমছে হাটে আগতদের সংখ্যা। তাই, মেরাদিয়া হাট রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *