চলচ্চিত্র নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়

:: সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ::

বেশ ক’বছর আগে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের মুকুটবিহীন সম্রাট ছিলেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার আব্দুল আজিজ। এরপর জনতা ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপির দায়ে তিনি ডুব দেন। যদিও আব্দুল আজিজের সিনেমাগুলোয় বাংলাদেশের শিল্পী কিংবা কলাকুশলীদের খুব একটা উপকার হয়নি। মাঝেমাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হরেক ঘোষণা দিলেও ওনার আর আগের অবস্থানে ফিরে আসার সম্ভাবনা হয়তো নেই। এরপর এলেন শাপলা মিডিয়ার সেলিম খান, যিনি বালু ঘাপলায় জড়িয়ে এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। এই সময়ে গত ঈদে প্রিয়তমা নামের একটা ব্লক বাস্টার সিনেমার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাহেবের একমাত্র সন্তান আরশাদ আদনান। তরুণ এই প্রযোজক বছরে একটা চলচ্চিত্র প্রযোজনা করলেও মিডিয়া জগতে এখন তাঁর উপস্থিতি বেশ সরব। অনেক কারণেই সরব। যেমন, তিনিই একমাত্র প্রযোজক যিনি বঙ্গভবনে ওনার সিনেমার একটা অনুষ্ঠান, যেটা আদতে মহরত ছিলো বললেও ভুল হবেনা, এটা করে দেখিয়েছেন।

আসছে ঈদে আরশাদ আদনান প্রযোজিত সিনেমা ‘রাজকুমার’ আসছে। এরই মাঝে ছবিটার বেশ ক’টা গান ইউটিউবে চলছে এবং যথেষ্ট ভিউজ পাচ্ছে। গানগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সমালোচনা হচ্ছে। এমনকি ভীষন রুচিহীন গালমন্দও হচ্ছে। মূলত এসব গলমন্দের টার্গেট গানগুলোর গীতিকাররা। যারা গালমন্দ করছেন ওনাদের অবশ্যই জানা আছে, একটা সিনেমায় কোন্ গান যাবে আর কোনটা যাবেনা এই সিদ্ধান্ত নেন নির্মাতা। কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শাকিব খানের ক্ষেত্রে গান ওনার পছন্দ না হলে সিনেমায় যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। তাহলে এক্ষেত্রে শুধু গীতিকারকেই কেনো গালাগাল দেয়া হচ্ছে? দোষ যদি হয়ে থাকে তাহলে তো এটা পুরো টিমের। নাকি গীতিকারেরা একটু নিরীহ গোছের বলেই ওদের ওপরই সব ঝাল মেটাতে হবে?

https://www.youtube.com/watch?v=VjJxnJXUiVw

দীর্ঘ কুড়ি বছর যাবত আমি একটা অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালাই। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে গান আমাদের ভালো লাগে ওগুলো শ্রোতাদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। আবার আমাদের কাছে যে গানগুলো জঘন্য ওগুলোই সুপার হিট। আরশাদ আদনান প্রযোজিত আসন্ন ছবির গানগুলো তো শ্রোতারা শুনছেন। দর্শক দেখছেন। তা না হলে এগুলোর মিলিয়ন-মিলিয়ন ভিউজ হচ্ছে কিভাবে? যে গানটা সবচেয়ে বেশি গালাগাল খাচ্ছে, ওটার তো ভিউজ তুলনামূলকভাবে অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। ভিউজের এই হুলুস্থুল দেখে তো গীতিকার ফেরারী ফরহাদের ওপর আমার হিংসে হচ্ছে। ভিউজ বিবেচনায় তাঁর গানের কাছেধারেও যেতে পারেনি আমার কোনো গান। তাহলে গীতিকার হিসেবে কে সফল? ফেরারী নাকি আমি? অবশ্যই ফেরারী। কারণ তিনি বাংলাদেশের মানুষের রুচি বুঝতে সক্ষম। একারণেই ওনার গানের লাখলাখ ভিউজ। আমার গুলো কয়েক শ কিংবা হাজার। যদিও বাংলাদেশের সিনেমার জন্যে আমি আজ অব্দি গান লিখিনি। অনেক নির্মাতা বলেছেন লিখতে। কিন্তু আমি লিখিনি। কেনো লিখিনি? কারণ, গানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের রুচি বুঝতে আমি অক্ষম।

যাই হোক। আরশাদ আদনান, যিনি গত ঈদেও বাংলাদেশের বিনোদন জগতের রাজকুমার ছিলেন, যাকে নিয়ে অধিকাংশ বিনোদন সাংবাদিক প্রশংসার ঝড় বইয়ে দিলেন, তিনিই এখন সমালোচিত হচ্ছেন কেনো? এটা উপলব্ধি করার যোগ্যতা অবশ্যই আরশাদ আদনান এর আছে। তিনি সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত এবং সংস্কৃতিবান পরিবারের সন্তান। ওনাকে বুঝতেই হবে সমস্যাটা আদতে কোথায়। আমি মনে করি, যা কিছু ঘটছে এসবের জন্যে দায়ী অর্বাচীন এক লোক, যে আরশাদ আদনান এর প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগের দায়িত্বে ছিলো বা আছে। এই লোককে আরশাদ নিলেন কেনো? কোন যোগ্যতা দেখে? তিনি কি বোঝেননি যে লোকের বাংলাদেশের কোনো পত্রিকায় এখন চাকরীও জোটেনা, সে আদতে কোন্ কিছিমের লোক?

লেখক: সম্পাদক, উইকলি ব্লিটস

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *