ঢাবির শতবর্ষপূর্তি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

:: অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান ::

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুরভিত এক ভালোবাসার নাম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তিতে আমি গর্বিত অংশীদার- প্রথমত: শিক্ষার্থী হিসেবে এবং পরবর্তীতে শিক্ষক হিসেবে। কি সৌভাগ্য আমার, এক জীবনের অনেক বড়ো প্রাপ্তি। অসাধারণ শিক্ষকরা আমাদের পড়িয়েছেন। তাঁদের দিকনির্দেশনা, সাহচর্য ও ভালোবাসা পেয়েছি। সহপাঠী ও বন্ধুদের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় জীবন ধন্য হয়েছে। আমাদের সহপাঠীদের ব্যাকগ্ৰাউন্ড ছিল বৈচিত্র্যময়। ধনী-দরিদ্র, উঁচু নিচু ভেদাভেদ ছিলো না। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রয়াসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমতার চারণভূমি ( Dhaka University is a equaliser) হয়ে উঠেছিল। আজকের আমার যত অর্জন তার পিছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অশেষ অবদান রয়েছে। আমি কৃতজ্ঞতার অপরিশোধ্য ঋণে আবদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানের কাছে। এক টাকা ও বেতন দিতে হয়নি। প্রথম বর্ষে ১২০ টাকা বেতন দিয়েছিলাম। মেধাবৃত্তি পাওয়ায় সেই টাকা ও ফেরত পেয়েছিলাম বছর শেষে। এই দেশের জনগণের করের টাকায় সারাজীবন এক টাকা বেতন না দিয়ে লেখাপড়া করেছি। এ রকম একটি দেশ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে। এদেশের মানুষের কাছে এ ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না। সে কারণে বারবার বিদেশে থাকার , শিক্ষকতার সুযোগ পেয়ে ও বারবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছি এ দেশের শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য। বারবার বিদেশীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। ক্যানো বাংলাদেশে ফেরত যাবে? কি আছে ওখানে? আমি উত্তর দিয়েছি – ওটা আমার দেশ, আমার জন্মভূমি, আমার বাবা-মায়ের দেশ, এক অদ্বিতীয় দেশ, যে দেশ আমাকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দিয়েছে। ও দেশের কাছে আমার অনেক ঋণ, এখন আমার ফেরত দেবার সময়।

শিক্ষক হিসেবে আমার প্রাপ্তি ও অনেক। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কিম্যাপ (KIMEP) বিশ্ববিদ্যালয় ( কাজাখস্থান) ও খন্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে বাংলাদেশের সব কয়টি নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে পড়িয়েছি। আমার ছাত্রজীবনের সব অপ্রাপ্তি ও কষ্ট আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদান ও ভালোবাসার মাধ্যমে দূর করেছি। আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের ভীষণ ভালোবাসি। শিক্ষকতা আমাকে সবকিছু দিয়েছে।এক একজন শিক্ষার্থী এক অনন্য জগত, সম্ভবনাময় একটা নক্ষত্র। শিক্ষকের কাজ ওদেরকে বিকশিত হতে দেয়া। ওদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা। শিক্ষকতার আরেক প্রাপ্তি হলো আমার সহকর্মী অধ্যাপকবৃন্দ। অসম্ভব মেধাবী ও জ্ঞানীগুণী মানুষ সাথে ওঠাবসার সুযোগ পেয়েছি। ওনাদেরকে আমি শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা ও দূর্বলতা সত্ত্বেও তার বর্তমান অবদানকে যেভাবে খাটো করা হয় বিষয়টি তেমন নয়। অনেকে যুক্তি দেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু ভালো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, সুতরাং তারা ভালো গ্র্যাজুয়েট হয়ে বের হবে সেটাই স্বাভাবিক। বিষয়টি অতোটা সহজ নয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার মান নেমে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মানকে ও ক্ষতিগ্ৰস্ত করেছে। শিক্ষকদের অনেক সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও তাদের অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দিনশেষে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটা ঘূর্ণায়মান রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করায় যা তাদেরকে শেখায় কিভাবে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে হয় এবং জয়ী হতে হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ নামক একটা স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। সেই অর্থে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা। এটা একটা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে বেশি। শুধু ব়্যাঙ্কিং/সংখ্যা দিয়ে তাকে মাপা যায় না।

একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে আছে সব জায়গায় দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে, সব পেশায়। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও উন্নয়নের অন্যান্য ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এ দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। দেশের অধিকাংশ সরকারি, বেসরকারি, এনজিও ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের আসনে (ছিলেন) আছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা। বিদেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্মানজনক অবস্থানে আছেন। এদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত এ্যালুমিনি। অধ্যাপক সত্যেন বোস, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন, অধ্যাপক আর. সি. মজুমদার, অধ্যাপক জি. সি দেব, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ অনেকে অধ্যাপনা করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ দেশের জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এই রকম একটা প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র পশ্চিমের জনকল্যাণমূলক উন্নত রাষ্ট্রে দেখা যায়। এটা সবার জন্য উন্মুক্ত, মেধাবীদের জন্য এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। সেই অর্থে এক অসাধারণ জনবিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি পরীক্ষা এখনো নির্ভরযোগ্য। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মানে এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অতুলনীয়। উল্লেখ্য, এদেশের সবগুলো প্রধান প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদানে সমৃদ্ধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সেরা শিক্ষার্থী ও অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক।

এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কতকিছু আছে। গাছ-গাছালি, ফুলে-ফলে শোভিত এক অপরূপ ক্যাম্পাস। প্রায় দুই হাজার শিক্ষক ও সাইত্রিশ হাজার শিক্ষার্থী, চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। এক একটা হল এবং এক একটা ভবন অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে বড়ো। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে আছে অপরাজেয় বাংলাসহ অসাধারণ সব ভাষ্কর্য, আছে চারুকলা ইনস্টিটিউট। আছে সব ধর্মের উপসানালয়। আছে শহীদ মিনার ও বাংলা একাডেমি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সবার জন্য উন্মুক্ত। সবার ভালো লাগার জায়গা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা ও দূর্বলতা সত্ত্বেও তার বর্তমান অবদানকে যেভাবে খাটো করা হয় বিষয়টি তেমন নয়। অনেকে যুক্তি দেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু ভালো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, সুতরাং তারা ভালো গ্র্যাজুয়েট হয়ে বের হবে সেটাই স্বাভাবিক।বিষয়টি অতোটা সহজ নয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার মান নেমে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মানকে ও ক্ষতিগ্ৰস্ত করেছে। শিক্ষকদের অনেক সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও তাদের অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দিনশেষে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটা ঘূর্ণায়মান রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করায় যা তাদেরকে শেখায় কিভাবে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে হয় এবং জয়ী হতে হয়।

কালের পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একশত বছর পার করেছে। টুপিখোলা অভিনন্দন।

অনেক প্রাপ্তির সাথে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত শতবয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয়, আছে অনেক চ্যালেন্জ। বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় কিউএসএস/ টাইম হায়ার এডুকেশন ব়্যাঙ্কিং এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০০-১০০০ এর মধ্যে, যা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। ব়্যাঙ্কিং একটা টেকনিক্যাল বিষয়, ব়্যাঙ্কিং এ উপরের দিকে জায়গা পেতে দীর্ঘ প্রস্তুতি দরকার, দরকার সময়, শ্রম ও টাকার, দরকার ব়্যাঙ্কিং এর জন্য নিবেদিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহযোগিতায় আইকিউএসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু চৌকস নেতৃত্ব, দক্ষ জনবল, অর্থের অভাব ও শিক্ষার গুণগত মানের ও অ্যাক্রিডেশটেনের গুরুত্ব বোঝার অক্ষমতা আইকিউএসিকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে দেয় নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ইতিবাচক বিষয় আছে যা ব়্যাঙ্কিং এর উপরের ধাপে জায়গা পাওয়ার জন্য সহায়ক। শুধু মাত্র একটা উন্নতমানের ওয়েবসাইটের অভাবে, এই বিশ্ববিদ্যালয় তার অর্জন বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারেনি। শতবর্ষী একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ভালো ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে না- এটা অবিশ্বাস্য। ইচ্ছার ও উদ্যোগের অভাবটাই প্রধান বাঁধা। ওয়েবসাইট হালনাগাদ নয়।সেখান শিক্ষকদের সিভি, পূর্নাঙ্গ গবেষণার তালিকা নেই। ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় দায়িত্ব একটা বেসরকারি সংস্থাকে দেয়া হোক। একটা চৌকচ ওয়েবসাইট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যা আছে তা প্রতিফলন করবে। এই একটি কাজ ঠিক মতো করতে পারলে ব়্যাঙ্কিং এ উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

গবেষণা ও আন্তর্জাতিকিকরণ সূচকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে আছে। মোট বাজেটের মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে গবেষণার জন্য। এটা দিয়ে কি গবেষণা হবে? যে সব শিক্ষক আন্তর্জাতিক জার্নালে তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করবে তাদেরকে পদোন্নতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে হবে। তরুণ শিক্ষকদের পিএইচডির জন্য বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। নগন্য বাজেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চালানো যায় না। তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত নিয়ম মেনে সব ধরণের নিয়োগ দিতে হবে। নীতিমালা বারবার ভেঙে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। একশত পার করেও এখনো একটা পূর্নাঙ্গ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অফিস করতে পারে নি। এই অফিস বিদেশী শিক্ষার্থীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজের জন্য সরকারের সাথে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের একটা বড় অংশে শিক্ষার্থীরা বাস করেন না, বাস করেন শিক্ষকরা। এসব অসামঞ্জস্য দূর করতে হবে। বিদেশী অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত করতে হবে।

সীমাহীন রাজনীতিকরণ ও স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের ফলে জাতীয় পর্যায়ে ভোটের গণতন্ত্র ফিরলে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণতন্ত্র নির্বাসিত হলো উনত্রিশ বছর যাবত ডাকসুর ভোট অনুষ্ঠিত না হওয়ায়। এই সুযোগে ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্বৈরাচার হয়ে উঠল, হল দখল করল, ভিন্নমতের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মুখ বন্ধ করা হলো। হলগুলো আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকলো না। হলগুলোতে প্রতিষ্ঠিত হলো সরকার ( সব সরকার) দলীয় ছাত্র সংগঠনের দখলদারিত্ব। গণরুম ও গেষ্টরুম সংস্কৃতি চেনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অচেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত কোরলো। গণরুম আগে ও ছিলো। কিন্তু সেই কক্ষগুলো ছিলো আনন্দে ভরা। আজকের মতো অত্যাচার, অনাচার, অসম্মান ছিলো না। সেখানে গ্ৰুপে লেখাপড়া হোতো, একজন আরেকজনকে সম্মান করতো, সাংস্কৃতি চর্চা হতো। অনেকে ঢাকার আরামের বাসা ছেড়ে এসে বন্ধুদের সাথে গাদাগাদি করে হলে থাকতো।

শিক্ষকদের দায় ও কম নয়। শিক্ষক সমিতি শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কম মনোযোগ দিয়েছে। সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষকদের মূল্যায়ন একটা অপরিহার্য অংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই মূল্যায়ণ পদ্ধতি এখনো সঠিকভাবে চালু করতে পারে নি। শিক্ষকদের জবাবদিহিতা ও জরুরী। অনিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা ভালো নয়। শিক্ষকদের আলাদা বেতন স্কেলের কথা শোনা গেলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ওটা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকদের এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি বন্ধ হত।

সঠিক নেতৃত্ব, পর্যাপ্ত বাজেট ও নিয়ন্ত্রণমূলক রাজনীতিমুক্ত করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক ব়্যাঙ্কিং এ উন্নতি সময়ের ব্যাপার মাত্র। রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন না। লেজুড়বৃত্তির ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে তার মতো চলতে দিতে হবে।

শতবর্ষ পূর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে  অভিনন্দন। শুভেচ্ছা। তার হারানো গৌরব আবার ফিরে আসুক- এই কামনা।

লেখকঃ ডিন, লিবারেল আর্টস এন্ড সোসাল সায়েন্সেস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *