মিডিয়া কী অভিশপ্ত?

:: শওকত মাহমুদ ::

স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য হয়ে আছে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের সম্মুখবর্তী অবদান। ভাষা আন্দোলন থেকেই শুরু। বায়ান্নর একুশেতে সালাম-বরকতের হত্যাকাণ্ডের প্রথম প্রতিবাদ ‘দৈনিক আজাদ’ সম্পাদক প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীনের। পরদিন অ্যাসেম্বলি থেকে পদত্যাগ এবং শহিদমিনারের উদ্বোধন করলেন। সেদিন ‘আজাদ’-এর ব্যানার হেডলাইন ‘মৃত্যুর জানাজা মোরা কিছুতেই করিব না পাঠ, কবরেরও ঘুম ভাঙে জীবনের দাবি আজ এতই বিরাট’। বার্তা সম্পাদক স্বনামধন্য সন্তোষ গুপ্তের দেওয়া শিরোনাম এটি।

আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে আমাদের পূর্বসূরিরা একটি স্বপ্ন লালন করেছেন — ‘স্বাধিকার ও স্বাধীনতা’। এটা ছিল তাদের collective dreaming… ওই মধ্যবিত্ত আলোকিত মানুষগুলো আইয়ুব শাহির ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। একাত্তরের পঁচিশে মার্চ ও চৌদ্দই ডিসেম্বর পাকবাহিনী ও তাদের ঘৃণ্য দোসর আলবদর, আলশামসদের খতম-মিশনে ছিল পত্রিকা অফিস, প্রেসক্লাব ও শ্রেষ্ঠ সাংবাদিকরা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে এখন দ্বন্দ্বে পড়ে যাই কী পেলাম? গণমাধ্যমে সত্য বলার পরিসর নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা বাদই দিলাম। গণমাধ্যম-বিশ্লেষণের কাটাছেঁড়ায় ঢোকাটাই এখন বিপজ্জনক। মিডিয়াকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় সম্বন্ধ ও সাংবিধানিক অধিকারের তাৎপর্য ঘোরালো হয়ে গেছে। কালাকানুনের জাঁতাকল, নিষেধাজ্ঞার স্বপ্রণোদিত চর্চা, ‘অন্যরকম’ মালিকানার আছর, দূষিত রাজনীতির বিভাজনের কলকারসাজি, মধ্যবিত্ত সাংবাদিকদের নিম্নবর্গীয় হয়ে যাওয়া বনাম কতিপয় উচ্চপদস্থদের চোখ ধাঁধানো বেতন ও সুবিধাদির গল্প — সব মিলিয়ে এখন মিডিয়া ভুবনে অগাধ ঘটনাবৈচিত্র্য। পুঁজির চালচলনে মিডিয়ার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মোহজালের ব্যাপকতা। দেশের একটি বিত্তবান গ্রুপ তাদের একটি ইংরেজি দৈনিক বন্ধ করে দিলেও কোনো হইচই নেই। পেশাগত মূল্যবোধ ও সত্য প্রকাশের লড়াকু প্রচেষ্টায় অতীতের সাংবাদিকতা যে রকমারি দীপ্তি ছড়িয়েছিল আজ তা ধূসর। দুঃসময় পেরোনোর সাঁকো কোথায়? গণমাধ্যম কি অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে? জনগণের তরফে অভিযোগ মিডিয়া সত্য বলতে চায় না, এড়িয়ে যেতে চায়। বিরোধী দলবিরোধী সাংবাদিকতাই একমাত্র স্বাধীন সাংবাদিকতা। মধ্যপ্রাচ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মালিকানায় শপিং মল আছে। এ গুজব প্রচারে সরকারি চাপ আছে। কিন্তু মিডিয়া এটা যাচাইও করে না অথবা আর কারও সম্পদ সেখানে আছে কিনা, জানতেও চায় না। সরকার বন্দনাই যেন আরাধ্য ও নিত্যকর্ম। দুর্নীতি, অনিয়ম বা কুশাসনের কিছু খবর প্রকাশে মিডিয়া পিছপা হচ্ছে না, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সরকার শুভ্র, ধবল, নিরঞ্জন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে টক শো’র উপস্থাপকেরা নিজেরাই উপসংহার টানেন সরকারের দিকে। দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় উল্লম্ফনে বাজারে ক্রেতাদের দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়, ক্ষোভ নয়। কী বলা যাবে এই প্রবণতাকে, in exact science of telling truth? ধরেই নিয়েছি যত দুর্বৃত্তপনা শুধু একপক্ষের, willing suspension of disbelief।

গণমাধ্যমে সত্য বলার পরিসর নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা বাদই দিলাম। গণমাধ্যম-বিশ্লেষণের কাটাছেঁড়ায় ঢোকাটাই এখন বিপজ্জনক। মিডিয়াকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় সম্বন্ধ ও সাংবিধানিক অধিকারের তাৎপর্য ঘোরালো হয়ে গেছে। কালাকানুনের জাঁতাকল, নিষেধাজ্ঞার স্বপ্রণোদিত চর্চা, ‘অন্যরকম’ মালিকানার আছর, দূষিত রাজনীতির বিভাজনের কলকারসাজি, মধ্যবিত্ত সাংবাদিকদের নিম্নবর্গীয় হয়ে যাওয়া বনাম কতিপয় উচ্চপদস্থদের চোখ ধাঁধানো বেতন ও সুবিধাদির গল্প — সব মিলিয়ে এখন মিডিয়া ভুবনে অগাধ ঘটনাবৈচিত্র্য। পুঁজির চালচলনে মিডিয়ার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মোহজালের ব্যাপকতা। দেশের একটি বিত্তবান গ্রুপ তাদের একটি ইংরেজি দৈনিক বন্ধ করে দিলেও কোনো হইচই নেই। পেশাগত মূল্যবোধ ও সত্য প্রকাশের লড়াকু প্রচেষ্টায় অতীতের সাংবাদিকতা যে রকমারি দীপ্তি ছড়িয়েছিল আজ তা ধূসর। দুঃসময় পেরোনোর সাঁকো কোথায়? গণমাধ্যম কি অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে? জনগণের তরফে অভিযোগ মিডিয়া সত্য বলতে চায় না, এড়িয়ে যেতে চায়। বিরোধী দলবিরোধী সাংবাদিকতাই একমাত্র স্বাধীন সাংবাদিকতা।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আমাদের মিডিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জগুলো হলো —

১.

আইনগত প্রতিকূলতা

প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অধ্যাদেশ, বিশেষ ক্ষমতা আইন, সংবাদপত্র বাতিলকরণ আইনের যে আঘাত স্বাধীনতার ঊষালগ্নে শুরু হয়েছিল, তার রেশে নতুন নতুন কালাকানুনে মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের নেতিবাচক শর্তগুলোই সরকারের প্রিয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর ৭খ, আইসিটি অ্যাক্ট, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, প্রকাশমান প্রবিধানমালা ও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, বিদ্যমান নানা কিসিমের নীতিমালা সাংবাদিকদের প্রান্ত থেকে অন্তে নিয়ে থাকার পরিকল্পিত আয়োজন। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি আবদুল মতিন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠির মতো, সাপ হয়ে ফেরাউনের জাদুকরদের সাপগুলো যে খেয়ে ফেলেছিল। কিন্তু বাস্তবে এখন ফেরাউনের সাপগুলোই শক্তিশালী মনে হচ্ছে।

২.

নব্য মালিকসমাজ

মিডিয়াতে এখন যে নব্য মালিকসমাজ তৈরি হয়েছে, তারা রাজনৈতিকভাবে একদেশদর্শী। তারা জোটবদ্ধ। পাশাপাশি সাংবাদিক নেতাদের মিডিয়া মালিকানায় আনা হয়েছে। এদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার উপকমিটির সদস্য। আশা করি, তারা সাংবাদিকদের ঠকাবেন না। জরিপে প্রকাশ, অধিকাংশ মিডিয়ার মালিক এখন শাসক দলমুখী। পুরনো মালিকেরাও প্রশাসনের নানা নিপীড়নে তটস্থ। সরকার প্রধানের বাড়িতে বিশেষ বিশেষ কাগজ যায় না বা তাদের প্রতিনিধিরা সরকার প্রধানের অফিসে নিষিদ্ধ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রথম এমনটি হলো যে সরকার প্রধানের সঙ্গে ভিন্নমতি সাংবাদিকদের দেখা বা সংবাদ সম্মেলনে যেতে পারার বিষয়টি বন্ধ। এমনকি সব নজির শিকেয় তুলে তথ্য মন্ত্রণালয় যেসব কমিটি করেছে, যেমন ওয়েজবোর্ড, ওয়েজবোর্ড মনিটরিং কমিটি, কোনোটিতে সরকারবিরোধী সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর কাউকে রাখা হয়নি।

৩.

নতুনরূপে সেন্সরশিপ

আগের নির্বাচিত বা সামরিক সরকারগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের মারফত প্রেস অ্যাডভাইস দিত, এটা ছাপা বা প্রচার করা যাবে, ওটা যাবে না। এখন সে বালাই-ই নেই। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন মৌখিকভাবে এ কাজ করছে। তারা মিডিয়া মনিটরিং মহাশক্তিশালী করেছে। এটা শুরু হয়েছিল ১/১১ থেকে। সাংবাদিকদের জন্য তাদের নৌ-বিহার বা পিকনিক আয়োজন এখন স্বাভাবিক বিষয়।

৪.

আদালতের ভূমিকা

আদালতকে সাংবাদিকরা সংবাদপত্রের বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সহায়ক বলে মনে করেন না। এখন পর্যন্ত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে উচ্চ আদালতের কোনো রায় এসেছে, এমন ঘটনা মনে পড়ে না। মত প্রকাশের জন্য প্রধান বিচারপতি যেখানে লাপাত্তা হন, সেখানে বলার কিছু থাকে না। প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম সাহসী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু দেশীয় আদালতের সহানুভূতি পান নি। একই ঘটনা ফটোগ্রাফার কাজল বা আরও অনেক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও। দীর্ঘ সময় পার হওয়া সত্ত্বেও সাগর-রুনীর হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহা হয়নি, আদালত সময় দিয়েই চলেছেন তদন্তকারীদের। ‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আদালত অবমাননার মামলায় আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি বলেছেন, ‘Truth is no defense’।

৫.

সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদপত্র দলন

গত এক যুগে কয়েক হাজার সাংবাদিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বিরোধী দল সমর্থিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের তিন চলতি সভাপতিকে সরকার গ্রেফতার করেছে। কোনো কোনো হিসেবে প্রকাশ, বর্তমান সরকারের আমলে একদিনও যায়নি যেখানে কোনো না কোনো সাংবাদিক অথবা ভিন্নমতের কারণে কেউ জেলে বন্দি ছিলেন না। পাশাপাশি অনেক সংবাদপত্রে ডিক্লারেশন নানা অজুহাতে বাতিল করা হয়েছে। চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত, ইসলামিক টিভি, আমার দেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত যেন আমরা মেনে নিয়েছি। এ জন্য সাংবাদিকরা ভীত, সন্ত্রস্ত।

৬.  

প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণ

প্রেস কাউন্সিল, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট, তথ্য কমিশন — এসব সরকারি প্রতিষ্ঠান সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা রাখার তো দূরের কথা, শাসক দলের রাজনৈতিক বিষয়াদি দেখভালই যেন তাদের মুখ্যকর্ম। অন্যদিকে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো রাজনৈতিক বিভাজন ও নতুন মালিক শ্রেণির নেতিময় উত্থানে নীরব হয়ে গেছে। সম্প্রতি এক পত্রিকা মালিকের লাশ জানাজার জন্য ওই পত্রিকার সাংবাদিকদের আপত্তির কারণে প্রেসক্লাবে আনতে দেওয়া হয়নি। বকেয়া শোধ না করায় প্রতিবাদ ওই পর্যন্তই।

৭.

মন ও জীবিকা

মিডিয়ার চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম হচ্ছে মন ও জীবিকা — এ দুটি ক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা পিছিয়ে গেছেন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য সাহিত্য, মূল্যবোধের এবং সুষ্ঠু শিক্ষার যে প্রেক্ষাপটটি গুরুতর প্রয়োজন, তার বোধহয় খামতি আছে। রুখে দাঁড়ানোর চেতনা আর সর্বজনীন নয়। করোনার কারণে তারা আরও গরিব। প্রেসক্লাবে টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্যবাহী ট্রাকের সামনে দীর্ঘলাইন। অধিকাংশ পত্রিকায় নিয়মিত বেতন নেই। ভিন্নমতের সাংবাদিকদের দক্ষ যোগ্য, অথচ কোথাও চাকরি পান না রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে। ব্যতিক্রম আছে, কিন্তু গুণী সাংবাদিকদের বেকারত্ব তীব্র। সরকারি কিছু অনুদান আসে। তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। অন্যদিকে সরকার সমর্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে আয়ের বৈষম্য তীব্র। উচ্চপদস্থরা অবিশ্বাস্য উচ্চ বেতন-সুবিধা পান, বাকিরা নিদারুণ দুর্দশায়। আবার তরুণ প্রজন্মের নিউজ পরিচালকরা সিনিয়রদের চাকরি দিতে চান না। তাছাড়া এডিটোরিয়াল ইন্সটিটিউশন দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের মিডিয়াকে ‘ন্যাশনাল মিডিয়া’য় পরিণত করতে এবং গণমুখী, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সুস্থ গণতন্ত্র প্রয়োজন। সর্বাগ্রে আসবে সহনশীল ও মানুষের অধিকারের প্রতি বিশ্বাসী রাষ্ট্রচালকদের কথা। একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সরকার আমাদের প্রথম স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা । সে জন্য সরকারের উচিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় মিডিয়া কমিশন গঠন করা। ১৯৮৩ সালে প্রবীণ রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে প্রথম মিডিয়া কমিশন হয়েছিল, যার সুপারিশগুলো ছিল প্রকৃত অর্থে সংবাদপত্রের জন্য কল্যাণকর। নতুন যে কমিশন হবে, তারা গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার আইনগত, পরিবেশগত, মালিকানাগত বিষয়গুলো দেখবে। সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের সাংবিধানিক আজ্ঞা যাচাই করা, ন্যায্য অধিকার নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশমালা দেওয়া তাদের কাজ হবে। মালিক হওয়ার যাবতীয় যোগ্যতা এবং শুধু ব্যবসায়িক দুর্বৃত্তপনার স্বার্থে টিভি পত্রিকা প্রকাশের দুরভিসন্ধি খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। গণমাধ্যমের জন্য রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য প্রয়োজন। কিন্তু তা যেন কোনোমতেই ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিংয়ের আদর্শে না হয়। শক্তিশালী প্রেস কাউন্সিল এবং অপসাংবাদিকতা রোধের ব্যবস্থাও জরুরি। ভূঁইফোড় সরকারি বিজ্ঞাপন খাওয়ার পত্রিকা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। গণমাধ্যমের মালিকানায় লাইসেন্সিং প্রথার অবসান হওয়া উচিত। তবে যারা মালিক প্রকাশক হবেন, তারা যেন সাংবাদিকদের বেতন ভাতা নিয়মিত দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেন এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলে বিপুল জরিমানার মুখে পড়েন তা নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদপত্রের মালিক মানে মননে স্বপনে ব্যতিক্রমী সত্তা। এসবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংহতি ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় মিডিয়া বিশ্বস্ত সঙ্গী হতে পারবে।

লেখকঃ সাবেক সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব ও রাজনীতিবিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.