শ্রীলঙ্কায় বাড়ল কারফিউয়ের মেয়াদ

:: নাগরিক নিউজ ডেস্ক ::

শ্রীলঙ্কায় চলমান কারফিউর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ চলবে বলে দেশটির প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম শাখা থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর এই তথ্য জানায়। এর আগে প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছিল, বুধবার সকাল ৭টার পর কারফিউ তুলে নেওয়া হবে। 

এদিকে দেশটির পুলিশ বলেছে, সোমবারের সহিংসতায় আট জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৩০ জনের বেশি। এ ছাড়া  ৮৫টির মতো আগুন হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষমতাসীন এক এমপি,  প্রাদেশিক সভার এক চেয়ারম্যান, পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক এবং এক সার্জেন্ট রয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা ৪৭টি গাড়ি এবং ৩৮টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ছাড়া ৪১টি গাড়ি এবং ৬৫টি বাড়ি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া গাড়ির অধিকাংশই সাবেক মন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের। 

এদিকে শ্রীলংকায় সোমবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আরও সংঘর্ষ ঠেকাতে ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে দেশটির সরকার সহিংসতাকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে।

মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদেরই সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করতে ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি লুটপাট করতে দেখা যাবে তাদের দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবর এএফপির।

তাছাড়া পুলিশ ও সেনাবাহিনীকেও অনেক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

বলা হয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়া যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। তাছাড়া সেনাবাহিনী কাউকে আটক করলে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় নিজেদের জিম্মায় রাখতে পারবে। 

এমনকি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে সন্দেহভাজন যে কারও বাড়ি ও গাড়ি তল্লাশি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সোমবার পুরো শ্রীলংকায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন। 

এদিন সদ্যই পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজপাকসের সমর্থকরা কলম্বোতে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। তারা লাঠি দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর আঘাত করে। 

এরপরই পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে এ সংঘর্ষ। স্থানীয় সময় রাতে বিক্ষুদ্ধ জনতা সরকার দলীয় রাজনীতিবীদদের বাড়িতে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেয়। তাছাড়া রাজাপাকসের সরকারি বাড়িতেও হামলা করার চেষ্টা চালায়। 

সংবাদ সংস্থা এএফপি  আরও জানিয়েছে, রাতের বেলা কলম্বো বিমানবন্দরের রাস্তা অবরোধ করে জনতা। জানা গেছে রাজাপাকসেপন্থি কেউ যেন দেশ ছেড়ে না পালাতে পারে সেজন্য বিমানবন্দর ঘেরাও করেছিলেন তারা। 

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষে আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আরও ২২৫ জন আহত হয়েছেন। 

এদিকে সোমবার মাহিন্দা রাজাপাকসের সরকারি বাসভবনে উত্তেজিত জনতা হামলা করার পর তাকে হেলিক্প্টারে করে উদ্ধার করে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। 

চামাল পোলওয়াত্তে নামে একজন আন্দোলনকারী জানান, প্রেসিডেন্টকেও পদত্যাগ করতে হবে। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.