অভাবের তাড়নায় ২৪,০০০ টাকায় সন্তান বিক্রি

:: নাগরিক প্রতিবেদন ::

রাজশাহীতে বাবার বিরুদ্ধে অভাবের তাড়নায় ২ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে ২৪,০০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ওই শিশুটির বাবা ও শিশুটির ক্রেতাকে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানায় হেফাজতে নিয়েছে। নবজাতককেও উদ্ধার করেছে তারা।

রোববার (২০ নভেম্বর) দুপুরে শিশুটিকে উদ্ধার করে রাজপাড়া থানা পুলিশের একটি দল।

নবজাতকের বাবার নাম মো. রহিদুল (৪০)। রাজশাহী নগরীর সিলিন্দা এলাকায় তার বাড়ি। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর। 

পুলিশ জানায়, গত ১২ নভেম্বর তিনি তার মেয়েকে ২৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। শুক্রবার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। পরে তাকে থানায় নেয়া হয়। এছাড়া শিশুটির ক্রেতা শাহানুর রহমানকেও থানায় নেয়া হয়েছে।

রহিদুলের আরও এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। তাদের বয়স ১০-১২ বছর। গত ১০ নভেম্বর রহিদুলের স্ত্রী জান্নাতুল খাতুন নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার কেয়ার নার্সিং হোম নামের বেসরকারি ক্লিনিকে আরেকটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। 

থানায় রহিদুল জানিয়েছেন, অভাবের তাড়নায় তিনি নবজাতক বিক্রি করে দেন। এতে তিনি ২৪ হাজার টাকা পান। আর শাহানুর জানিয়েছেন, তার বোনের কোনো সন্তান নেই। তাই বোনের জন্য তিনি শিশুটিকে কিনে নেনে। কিন্তু দত্তক নেয়ার মতো করে কোনো কাগজপত্র করে না দেয়ায় তিনি শিশুটি নিজের কাছে রাখেননি। তার অন্য এক আত্মীয়কে শিশুটিকে দিয়েছেন। ওই আত্মীয়ের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌর এলাকায়। পরে রোববার দুপুরে শিশুটিকে উদ্ধার করে রাজপাড়া থানা পুলিশের একটি দল। 

রহিদুলের স্ত্রী জান্নাতুল খাতুন জানান, সন্তানের কথা জিজ্ঞাসা করলে রহিদুল বলে অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি আছে। এইভাবে বেশ কয়েকদিন কেটে যায়। গত তিনদিন আগে হঠাৎ বলে সন্তান মারা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়। নিজেদের মধ্যে বাকবিতান্ডার এক পর্যায়ে এলাকার মানুষ জেনে যায়। তারা রহিদুলকে জিজ্ঞাসা করলে পুরো বিষয়টি খলে বলে। পরে আমরা রাজপাড়া থানায় এসে পুলিশকে বিস্তারিত জানায়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. রফিকুল আলম জানান, ‘শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ রওনা দিয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।‘

কেয়ার নার্সিং হোমের পরিচালক গোলাম আশরাফ সরকার জানান, নার্সিং হোমেই শিশুটির বাবা নবজাতককে বিক্রি করেছেন তা তিনি আগে জানতেন না। তবে বিষয়টি তিনি পরে শুনেছেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *