সুখী হবার সহজ উপায়

:: মুহাম্মদ শামীম ::

যদি কোন মানুষকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার জীবনে কী কী প্রয়োজন? দেখবেন অধিকাংশ মানুষই বলবে কী চাই না সেটাই বলুন। কত কিছুই তো দরকার। এবার যদি জিজ্ঞাসা করেন, আপনার জীবনে কী কী প্রয়োজন নেই বলুন তো? দেখবেন সেখানেও কয়েকটি বিষয়ের কথা বলার পরে আর অপশন খুজে পাবে না। একবার ভেবে দেখুন তো বিষয়টি কেমন, আপনার অভাব কিংবা প্রয়োজন অসীম অথচ আপনি বড়জোড় দশ কিংবা বিশটি প্রয়োজনের কথা বলতে পারলেন।

মনে পড়ে কিছুদিন পূর্বে ফেসবুকে হঠাৎ করেই একটি ভিডিও সামনে চলে এলো। আমি সাধারনত ফেসবুকের ভিডিও তেমন একটা দেখি না বললেই চলে। তবুও কেন যেন দেখতে শুরু করলাম। সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখে তাজ্জব বনে গেলাম। ভিডিওটি ছিল এই মহাবিশ্বে আমার অবস্থান খুব কাছ থেকে দেখা এবংসবচেয়ে দূর থেকে দেখা। যখন কাছ থেকে দেখা যায় নিজেকে কত বড় মনে হয়, কতকিছু মনে হয়! আসলেই কি আমরা এত বড় । যখন মহাবিশ্ব দেখানো শুরু করলো তখন এই যে এতবড় মহাদেশ তাও এক সময় অস্তিত্বহীন হয়ে গেলো । এমনকি পৃথিবী হয়ে গেলো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র!

কত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই পৃথিবী! আর আমরা সেখানে পৃথিবীর কোন মহাদেশের কোন দেশের বিভাগের, জেলার এক অতি ক্ষুদ্রতম ইউনিটে পাঁচ-ছয় ফুট উচ্চতার একজন মানুষ। ভেবে দেখুন এখানে কেউ দুই টাকা পেলেও অনেক খুশী হয় আবার কেউ লক্ষ টাকা পেয়েও সুখী নয়। সারা দিনের ক্লান্তি, অফিসে কাজের চাপ, বসের ঝাড়ি খাওয়া, রাস্তায় দুর্বিসহ যানজট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি , সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া সবকিছু তুচ্ছ হয়ে যায় যখন আপনার সন্তান দরজা খুলে আপনাকে জড়িয়ে ধরে, বাবা বলে ডাক দেয়। কত সামান্য উপলক্ষ অথচ কত অসীম ক্ষমতা তার। এটাই জীবন। সবকিছুর পরে জীবন সুন্দর। যার জীবনে চাহিদা যত কম সে তত বেশী সুখী।         

শুরু করেছিলাম মানুষের প্রয়োজন নিয়ে। অসীম অভাবের কারনে চাহিদা এবং যোগানের সামঞ্জস্য আসলেই কঠিন। তবে আমার চিন্তা একটু ভিন্ন রকমের। যে পৃথিবীকেই এক সময় অতি ক্ষুদ্র মনে হয় সেখানে আমাদের চাহিদা কিংবা প্রয়োজন কত আর বেশি হতে পারে? মানুষে মানুষে ভিন্নতা রয়েছে, আচার-আচরণে, কথা-বার্তায়, প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে এবং অবশ্যই সন্তুষ্টিতে ।আপনি কতটুকু পেলে সুখী হবেন তা একান্ত আপনার ওপর নির্ভর করে। আজকের এই লেখাটি বড় করার কারন হচ্ছে কিছু বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা যা আমাদের চাহিদা-যোগানের সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য না থাকলেও আপনাকে তৃপ্তি দিবে। মানসিক তৃপ্তির চেয়ে বড় কিছু নেই।

আমার মতে জীবনে সবচেয়ে গুরতুত্বপূর্ন কাজ হচ্ছে প্রায়োরিটি নির্ধারণ করা।আপনার জন্য সপ্তাহে দুদিন কাচ্চি খাওয়া জরুরী নাকি সপরিবারে প্রতিদিন সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবার জরুরী সে সিদ্ধান্ত কিন্তু একান্তই আপনার। তবে কিছু বিষয় আমাদেরকে সব সময়ই প্রভাবিত করে; আমর মানুষিক জীব কিনা তাই! আমাদের ভেতরে বসবাস করে এক জটিল মন্সতত্ব।কর্মজীবন, ব্যবহার,  ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা, আন্তরিকতা, আত্মমর্যাদা, অনুশোচনা, বিষন্নতা এসব বিষয়গুলো আমাদের মনস্তত্ব ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই সুখী হবার জন্য প্রয়োজন সুস্থ স্বাভাবিক চিন্তা-চেতনা এবং জীবনে ছোট্ট করে দেখা। মনে রাখতে হবে বিকেলের হেলে পড়া রোদে কিন্তু নিজের ছায়াকেও অনেক বড় দেখা যায়, তবে সেটি পতনের জন্যই! জীবনকে যারা যত বেশি গুরুত্ব দিবে তাদের জন্য জীবন ততই কঠিন হয়ে উঠবে। তখন নানা ধরণের নেতিবাচক চিন্তা, সন্দেহ এবং ভয় জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলবে।তাই ইতিবাচক হওয়া জরুরী। ছোটবেলায় যেমন বড়দেরকে দেখে বড় হতে চাইতাম কিন্তু কোন তাড়াহুড়ো করিনি তেমনি আমাদের লক্ষ্য ঠিক রাখতে হবে, সে লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে হবে। তবে তাড়াহুড়া করা যাবে না, অস্থির হওয়া চলবে না।

মনে করুন সেই ফেসবুকে দেখা ভিডিওর কথা, কত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই পৃথিবী! আর আমরা সেখানে পৃথিবীর কোন মহাদেশের কোন দেশের বিভাগের, জেলার এক অতি ক্ষুদ্রতম ইউনিটে পাঁচ-ছয় ফুট উচ্চতার একজন মানুষ। ভেবে দেখুন এখানে কেউ দুই টাকা পেলেও অনেক খুশী হয় আবার কেউ লক্ষ টাকা পেয়েও সুখী নয়। সারা দিনের ক্লান্তি, অফিসে কাজের চাপ, বসের ঝাড়ি খাওয়া, রাস্তায় দুর্বিসহ যানজট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি , সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া সবকিছু তুচ্ছ হয়ে যায় যখন আপনার সন্তান দরজা খুলে আপনাকে জড়িয়ে ধরে, বাবা বলে ডাক দেয়। কত সামান্য উপলক্ষ অথচ কত অসীম ক্ষমতা তার।

এটাই জীবন। সবকিছুর পরে জীবন সুন্দর। যার জীবনে চাহিদা যত কম সে তত বেশী সুখী।         

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *