✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ৯৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১০২ জন মারা গেছেন। চলতি সেপ্টেম্বরের ২৫ দিনে রোগটিতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩, খুলনা বিভাগে ১৩০, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬, বরিশাল বিভাগে ৪৪, রংপুর বিভাগে ৪৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ৪ জন ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা পুরুষের মধ্যে বেশি হলেও মৃত্যুর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছেন নারীরা। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীদের মধ্যে পুরুষ ৪৩ হাজার ৬৪ জন এবং নারী ২৫ হাজার ৮৪৪ জন। অর্থাৎ পুরুষ আক্রান্তের সংখ্যা নারীর চেয়ে ১৭ হাজার ২২০ জন বেশি।
তবে, একই সময়ে ডেঙ্গুতে মোট ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক হিসাবে নারী ১১১ জন এবং পুরুষ ৯৮ জন। অর্থাৎ আক্রান্ত কম হলেও মৃত্যুর সংখ্যায় নারী পুরুষের চেয়ে ১৩ জন বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৬৯ হাজার ১৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মোট আক্রান্তের প্রায় ৬২.৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭.৫ শতাংশ নারী।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন ২১–২৫ বছর বয়সীরা। এই বয়সে পুরুষ আক্রান্ত ৬ হাজার ৬৯৯ জন এবং নারী ৩ হাজার ২৬৮ জন। এরপর ২৬–৩০ বছর বয়সী পুরুষ ৬ হাজার ৪ ৩৩ জন ও নারী ৩ হাজার ৪১৬ জন।
১৬–২০ বছর বয়সী পুরুষ ৬ হাজার ২৯৩ জন ও নারী ৩ হাজার ৭৮ জন; ৩১–৩৫ বছর বয়সী পুরুষ ৪ হাজার ১০২ জন ও নারী ২ হাজার ৭৩২ জন এবং ৩৬–৪০ বছর বয়সী পুরুষ ৩ হাজার ৬৩৫ জন ও নারী ২ হাজার ৪৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
২৪ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৭৮২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৬৮ জন এবং নারী ৭১৪ জন।
২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মত।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে একলাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন।
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৭০৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০০ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৬ বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৩০৪০ জনের।
দেশের প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় ২০০০ সালে। ওই বছর ৫ হাজার ৫৫১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়।
২০০০ সালের পরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে এলেও ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে ভয়াবহ পরিস্থিতি অতিক্রম করে দেশ। ২০১৯ সালে ১ লাখেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, আর মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের।
২০২০ সালে করোনার প্রকোপের মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম ছিল। ২০২০ সালে ডেঙ্গুতে মারা যায় ৭ জন, ২০২১ সালে ১০৫ জন এবং ২০২২ সালে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়।
ঢাকার তুলনায় এর বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল দ্বিগুণের বেশি। সারা দেশের মৃত্যুর ৫৮ শতাংশই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের।
