এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ১২৮৭৯২৬টি আবেদন

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎ 

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে সাত দিনে ৪ লাখ ২৫১ জন শিক্ষার্থী মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি বিষয়ের নম্বর পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছেন; যার মধ্যে তত্ত্বীয় বিষয়ে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক বিষয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে গড়ে একজন শিক্ষার্থী তিনটি বিষয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষণ চেয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। আগের বছরের তুলনায় এবার আবেদনপত্রের সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখের বেশি বেড়েছে।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, যা ২২ হাজারের বেশি।

বোর্ডভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে তত্ত্বীয় বিষয়ে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক বিষয়ে ৫৮ হাজার ১২টি মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৭টি আবেদন পড়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে মোট আবেদন ১ লাখ ১২ হাজার ৬১১টি। রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ২২ হাজার ২২৮টি, যশোরে ৯১ হাজার ৫৯টি এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০১টি আবেদন পড়েছে। এ ছাড়া বরিশালে ৬১ হাজার ৮৬টি, সিলেটে ৬০ হাজার ৯৭৪টি, দিনাজপুরে ১ লাখ ১১ হাজার ২৬০টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৯টি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫১ হাজার ২১৪টি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৮৭ হাজার ১৫৭টি আবেদন জমা পড়েছে।

এবার পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানো, মূল্যায়নে শৃঙ্খলা এবং পরীক্ষকদের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নেও ছিল সতর্কতা ও কঠোরতা। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া শিক্ষার্থীরা মনে করছে, তাদের প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর এসেছে।

বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল ফলের বিষয়গুলোয় কম নম্বর পাওয়ার পর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার প্রবণতা বেশি। যেমন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ইংরেজিতে ৪৬ হাজারের বেশি, এরপর গণিতে ৩৪ হাজার। একই চিত্র অন্য শিক্ষা বোর্ডগুলোতেও। তবে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন বেড়েছে বলেই যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

যে পরীক্ষার্থীরা চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করবেন তাদের খাতা শুধু পুনর্নিরীক্ষণ নয়, পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে গত ১০ আগস্ট সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *