✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের নার্সারিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার সকালে হাসপাতালের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য (এমসিএইচ) ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পিমস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় নার্সারিতে ১৬ জন নবজাতক ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে নার্সারির একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ঘটনাস্থলে তাপমাত্রা কমাতে কুলিং অপারেশন চালানো হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগুনে ১৪ নবজাতক সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। তবে হাসপাতাল কর্মকর্তাদের হিসাবে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৫। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে ১৫ নবজাতকের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুনের সূত্রপাত, দুর্ঘটনার কারণ এবং এ ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এমসিএইচ ওয়ার্ড সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিহত শিশুদের অভিভাবকদের অভিযোগ, আগুন লাগার সময় ইনকিউবেশন সেন্টারে কোনো কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আগে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নিহত নবজাতকদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়ার্ডে থাকা একটি এয়ার কন্ডিশনারের কমপ্রেসর বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলে এখনো ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুনের তাপ কমাতে কুলিং অপারেশন চালাচ্ছেন।
ইসলামাবাদ প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের তৃতীয় তলায় থাকা একটি ওয়ার্ডে আগুন লাগে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার ব্রিগেডের ছয়টি গাড়ি এবং চারটি অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়। প্রশাসন জানায়, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং শিশুদের দ্রুত ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪ শিশু আগুনে ‘সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।’ ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার জেনারেলের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে পিআইএমএসের মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল ডনকে বলেন, ওই ওয়ার্ডে ১৫টি শিশু ছিল। তিনি বলেন, ‘একজন শিশুকে অন্তত একজন চিকিৎসক বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন।’
জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তাফা কামাল বলেন, ওয়ার্ডে থাকা নবজাতকদের কেউ ইনকিউবেটরে, আবার কেউ অক্সিজেনের সহায়তায় ছিল। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডে থাকা এয়ার কন্ডিশনারে একটি ‘বিস্ফোরণ’ ঘটে। এর পরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মন্ত্রী জানান, অক্সিজেনের ট্যাংক থাকার কারণে আগুন আরও ভয়াবহ আকার নেয়। তিনি নিশ্চিত করেন, ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
মালিক ইসরার নামের এক ব্যক্তি ডনকে জানান, তাঁর এক ভাতিজি হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। তিনি বলেন, নার্সারিটি এমন একটি ভবনে ছিল যেখানে তখনও মেরামত ও সংস্কারের কাজ চলছিল, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর রোগীদের ভবন খালি করতে বলা হয়। সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদেরও দ্বিতীয় তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পিআইএমএস ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল। এটি রাজধানীর দুটি সবচেয়ে পুরোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের একটি। পিআইএমএসের অধীনে একাধিক হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাকিস্তানে বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর পেছনে দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা আইন ও ভবন নির্মাণবিধি, পাশাপাশি এসব বিধি যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ার বিষয়টি প্রায়ই উঠে আসে।
জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকও নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঘটনাটি তাঁকে ‘হৃদয়বিদারক’ অবস্থায় ফেলেছে এবং শোকাহত বাবা-মায়েদের কষ্ট ও বেদনায় তিনিও সমানভাবে মর্মাহত।
