পশু জবাই ও মাংস কাটতে করতে গিয়ে আহত ১৬৮ জন

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎ 

রাজধানীতে ঈদুল আজহার দিনে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটি করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত অন্তত ১৬৮ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা। 

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া আহতদের মধ্যে গুরুতর প্রায় ২০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। 

আহতরা পুরান ঢাকার নারিন্দা, ওয়ারী, লালবাগ, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, চকবাজার, হাজারীবাগ ও বংশালসহ সবুজবাগ, উত্তরা, বাড্ডা, ধানমন্ডি, কলাবাগান, মিরপুর ও পল্লবী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কলিন্স মল্লিক জানান, আহতদের কেউ এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হননি। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গরুর লাথি ও শিংয়ের গুঁতা খেয়ে এবং মাংস কোপাতে গিয়ে নিজের হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগাসহ নানাভাবে আহত হয়েছেন তারা। 

ডা. কলিন্স বলেন, ঈদের ছুটির দিনেও আমরা ছুটি উপেক্ষা করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। 

কোরবানির পশু নিয়ন্ত্রণ ও জবাই করতে গিয়ে গরুর লাথি, গুঁতা ও দড়ির টানে হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা এবং রগ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক আঘাত নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩৩ জন।

এর বাইরে গত ১৫ ঘণ্টায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে আহত হয়ে হাসপাতালটিতে এসেছেন আরও ১৬৮ জন, যাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৮৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) ঘুরে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের এমন ভিড় দেখা গেছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সকালে ঈদের নামাজ শেষে কোরবানি শুরুর পর থেকেই হাত-পা ভাঙা ও কাটা-ছেঁড়ার মতো বিভিন্ন ক্ষত নিয়ে রোগীরা পঙ্গু হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। গত ১৫ ঘণ্টায় কোরবানিজনিত কারণ ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ১৬৮ জনের মধ্যে কিছুটা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ৮৯ জনকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করেছে।

ঢাকার তুরাগ থেকে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন মামুন তালুকদার। গরুর গুঁতায় তিনি তার বাম হাতের দুটি আঙুল হারিয়েছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মামুন তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘অনেক চেতা গরু। অলরেডি কিনে আনার সময় আমাকে তিনবার ফেলে দিয়েছে। তারপর গরুর লগে যুদ্ধ করে আমরা চার পাঁচজন আহত হয়ে বাসায় নিয়ে আসছি। কোরবানির জন্য বের করে গাছের সঙ্গে একটা বান দিয়েছি। আরেকটা বান দেব এমন সময় আমাকে গোতা দিতে গেছে আর আমার হাট (হাত) টিনের উপর পড়েছে। এমন সময় গরু গুঁতা দেছে, আর আমার দুইটা আঙুল ছিল টিনের উপর, আঙুল দুইটা কেটে পড়ে গেছে।’

একইভাবে হাতের আঙুল ভেঙে হাসপাতালে এসেছেন মিরপুর ১ নম্বরের টোলারবাগ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তুষার মুফতি। তিনি বলেন:

‘গরু যখন ফালাবে, কিসের পা বাঁধা– পরে টান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরু পড়ে গেছে। দড়িগুলো ভালো ছিল না। পিছলা দড়ি। গরু পড়ে যাওয়ার সময় টান দিছে আর আমার হাতে লেগে বাম হাতের একটা আঙুল ফেটে ভেঙে গেছে।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *