✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা পরীক্ষার প্রথম দিনেই ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে আন্ত: শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এ ছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান। এদিন সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্রের (আবশ্যিক) মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টায় শেষ হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রথম দিনের পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ সন্তোষজনক ছিল।
প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২ দশমিক ০১ শতাংশ।
বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১ জন, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৬৭ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ হাজার ৭৯৫ জন, যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৭৮ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ হাজার ৩৪০ জন, সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ১২৭ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ৩৪৬ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৯৩৭ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ হাজার ১৮২ জন।
অসদুপায়ের দায়ে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে ১ জন, যশোর বোর্ডে ২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ জনসহ মোট ৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কোনো পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার ৬৫৩। এ বোর্ডে ৪ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন এবং অসদুপায়ের দায়ে ১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন পরীক্ষার্থী। এ বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে ১ জন পরীক্ষার্থীকে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের বাইরে আরও ৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বছর সারাদেশে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬০টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোর বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্র ত্যাগ নিশ্চিত করতে তারা যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।
পরীক্ষা শেষে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই জানান, বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র মানসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। অনেকের মতে, সৃজনশীল অংশ তুলনামূলক সহজ হলেও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা ভালো হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তারা।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তল্লাশি হলেও কোথাও অতিরিক্ত হয়রানি বা বাড়াবাড়ির ঘটনা ঘটেনি। ফলে প্রথম দিনের পরীক্ষা নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে।
