✍︎ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ✍︎
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশের ৯ সদস্য ও সাংবাদিকসহসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজন শ্রমিকও রয়েছেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে অবরোধ শুরু করেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে তাদের এই কর্মসূচি। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে পুলিশ। তবে একপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি হলে উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরাও ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। এতে জেলা পুলিশের তিনজন এবং শিল্প পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে দুই শ্রমিক আহত হন।
এদিকে সংঘর্ষ ও অবরোধের কারণে কয়েক ঘণ্টা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সস্তাপুর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে একটি পোশাক কারখানার সামনে জড়ো হন। পরে তারা কারখানার ফটকে ধাক্কাধাক্কি করে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বের করে আনেন। এরপর সস্তাপুর, রামারবাগ, কোতালেরবাগ, জালকুড়ি ও দেলপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানার শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ওঠার চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে প্রথমে তাদের বুঝিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরে তারা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের একজন সদস্য আহত হয়েছেন।
একপর্যায়ে কয়েক হাজার শ্রমিক পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শিবু মার্কেট ওভারপাসের নিচে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম ও জালকুড়ি এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা।
প্রথমে পুলিশ হ্যান্ডমাইকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করে। শ্রমিকদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। তবে শ্রমিকেরা দাবি আদায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েক দফা বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের (জোন-৪) পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকেরা আন্দোলনে ছিলেন না। বিকাল ৩টার কিছু আগে কয়েকটি কারখানা থেকে বের হয়ে অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও সড়কে নিয়ে আসেন তারা। পুলিশ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। একপর্যায়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে প্রায় ১০০ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সড়কে যানবাহন চলাচল করছে।
