𓂃✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক 𓂃✍︎
আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ২৫০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসীর প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি কক্সবাজার উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করা নৌকাটি বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ পুলিশের বরাতে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৯ এপ্রিল ভারত মহাসাগর থেকে একটি বাংলাদেশি জাহাজ ৯ জনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছয়জন মানবপাচারকারী বলে অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, নৌকাটিতে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি। যাত্রাকালে অতিরিক্ত ভিড় ও শ্বাসরোধে ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরে বড় ঢেউয়ের আঘাতে নৌকাটি ডুবে যায়।
এর আগে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ওই নয়জনকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা যুবক রফিকুল ইসলাম জানান, ২ এপ্রিল তাঁকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কুতুপালং বাজার থেকে টেকনাফের রাজারছড়া এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। ৪ এপ্রিল রাতে তাঁদের ছোট নৌকায় করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে মিয়ানমারের জলসীমায় অপেক্ষমাণ একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়।
রফিকুলের দাবি, ওই ট্রলারে ১৩ জন ক্রু ও পাচারকারীসহ মোট ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ১৫০ জন রোহিঙ্গা এবং অন্যরা বাংলাদেশি। যাত্রীদের মধ্যে ২১ জন রোহিঙ্গা নারী ও ৪ শিশুও ছিল।
রফিকুল আরও জানান, ৮ এপ্রিল আন্দামান সাগরের কাছে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠলে পাচারকারীরা যাত্রীদের মাছ রাখার ড্রাম ও নেট রাখার ছোট চারটি কুঠুরিতে গাদাগাদি করে ঢুকতে বাধ্য করে। এতে শ্বাসরোধে অন্তত ২৫-৩০ জনের মৃত্যু হয়। একপর্যায়ে বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। রফিকুল একটি দুই লিটারের পানির বোতল ধরে ভেসে থেকে প্রাণ বাঁচান। আরেক যাত্রী ইমরান জানান, তিনি একটি পানির ট্যাংক ধরে দুই দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর উদ্ধার হন।
এই ঘটনায় কোস্ট গার্ড বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করেছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ‘তানজিনা সুলতানা’ নামক ওই ট্রলারটি অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে বৈরী আবহাওয়ায় ডুবে যায়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা ৯ জনের মধ্যে ৬ জন সন্দেহভাজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিন ভিকটিমকে আদালতের নির্দেশে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তবে নিখোঁজ যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা বা তাঁদের পরিণতি নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওসি জানান, উদ্ধার ব্যক্তিরা ট্রলারডুবির বিস্তারিত বর্ণনা দিতে পারছেন না। ফলে তদন্তে কিছুটা জটিলতা রয়ে গেছে।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাস্তুচ্যুতি ও টেকসই সমাধানের অভাবের করুণ পরিণতি। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় আরও সহযোগিতা ও তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে, যাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের সময় পালিয়ে আসে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন না হওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
