✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল এবং ২৭টি বিয়ারিং প্যাড গুরুতর (ক্রিটিক্যাল) ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এসব ত্রুটি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলেও সবগুলো গুরুতর নয়। এর মধ্যে ৪৯৭টি ত্রুটি ‘মাইনর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপনের সময়কার ওয়ার্কম্যানশিপ-সংক্রান্ত।
মন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’ একইসঙ্গে ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।
যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ডিএমটিসিএল গত ১৬ জুলাই ২০২৬ ‘সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। এরই মধ্যে ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট ও ২৭টি স্থানে বিয়ারিং প্যাডের সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ বসানো হয়েছে।
চিহ্নিত ২৭টি ক্রিটিক্যাল বিয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৬টি পিলারের ফাটলের ঝুঁকি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বুয়েটকে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে।
ফাটল পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানো হচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে এ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে যেসব বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছিল, নানা কারণে সেগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ হাজার ২৫৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণ ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংরক্ষিত আসনের সানজিদা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস রয়েছে ১ হাজার ২৯৮টি এবং ট্রাক ৫২৫টি। এর মধ্যে সচল বাস ১ হাজার ১৭২টি ও অচল ১২৬টি। সচল ট্রাক ৪৯৪টি এবং অচল ৩১টি।
সংরক্ষিত আসনের শওকত আরা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রাম শহরে ১৩টি রুটে ১৪টি মহিলা বাস (পিংক বাস) সার্ভিস পরিচালনা করা হচ্ছে। সারা দেশে মহিলা বাস সার্ভিস সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও ১০০টি ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
