জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জন কারাগারে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আটক করা ২৮৯ জনের মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পরিচয় যাচাই শেষে আজ অন্তত ২৫০ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

রোববার রাতে ২৭ জনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাঁদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন। একই সঙ্গে জামিন শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আসামিদের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত ও তাছলিমা জাহান পপি জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মাসুদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষের জামিন শুনানির জন্য আগামীকাল দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রিজন ভ্যানে ২৭ জনকে আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁরা হলেন মো. দিনারুল আলম (৫০), ইমান আহম্মেদ (৪৫), মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ (৩৭), জয় সরকার (৩১), মো. মিরাজ আহমেদ (১৯), মো. মিরাজ মল্লিক (৩৯), মো. রবিউল ইসলাম (৪২), মিলন কুমার (৩৯), মো. কাউসার হোসেন (৫০), শ্রী অন্তর শিল (৪০), জালাল উদ্দিন মণ্ডল (৫৫), আবদুল লতিফ (৪৬), শামীম আহমেদ (৩০), আহম্মেদ আহসান হাবিব (৪৩), মো. সুজন আলী (৩২), মো. তরিকুল ইসলাম (৩৭), মো. সাইফুল্লার সাদেক (৪৩), নয়ন আলী (৩০), সাজিদুল ইসলাম (৪০), তাজুল ইসলাম (৩৪), নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার (৪৩), আনোয়ার হোসেন (৫২), মো. আলমগীর হোসেন (৪৫), মো. আল আমিন হাওলাদার (৩৯), মো. তুষার আলী (৫০), মো. রাসিদুল হক (৪৪) ও মীর মুক্তিসুর রহমান (৫১)।

আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়, এই ব্যক্তিরা গতকাল জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁদের আটক করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনাস্থলে আসার বিষয়ে তাঁরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তাঁরা কোনো ধর্তব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, প্রাথমিকভাবে এমন ধারণা করা হচ্ছে। এসব কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাঁদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।

গতকাল বিকেলে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এই ২৭ জনসহ ২৮৯ জনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনার বিষয়ে জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গতকাল তাদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা ছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অনুমতি নিয়ে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় সারা দেশ থেকে আসা ৪০০–এর মতো নেতা-কর্মী অংশ নেন। সভা চলার এক পর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেখানে হামলা চালান। পরে পুলিশ এসে কার্যালয় ঘেরাও করে নেতা-কর্মীদের আটক করে নিয়ে যায়। পরে রাতেই যাচাই-বাছাই করে অনেককে ছেড়ে দেওয়া।

দুপুরে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চাবি দলটির নেতাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন জানিয়েছেন।

ঢাকার গুলিস্তানে জাসদের প্রধান কার্যালয়ে শনিবার বিকাল অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

অভিযান শেষে সন্ধ্যায় পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি নির্দিষ্ট সংখ্যাটা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না, তবে সংখ্যাটা ২৮০ থেকে ৩০০ জনের কাছাকাছি হবে।”

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *