✍︎ সাভার প্রতিনিধি ✍︎
সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রতিবেশীরা জানিয়েছে ওই কক্ষের দরজা-জানালা সব সময় বন্ধ থাকত। নিহত নারী ও পুরুষ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে কক্ষটি থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত দুজন হলেন-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়ার নাজমা আক্তার (৩৩) ও তাঁর স্বামী নিশা পলাশবাড়ী এলাকার আলমগীর হোসেন (৪২)।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৯ আগস্ট কক্ষটি ভাড়া নেন আলমগীর ও নাজমা দম্পতি। গত তিন দিন ধরে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। গতকাল শুক্রবার আশপাশের কক্ষের ভাড়াটেরা সেখান থেকে পচা গন্ধ পান। বিষয়টি তাঁরা ভবনের মালিককে জানান।
প্রথমে বিড়াল মারা গিয়ে পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করেছিলেন ভবনটির মালিক। পরে গন্ধ তীব্র হওয়ায় মালিক ও ভাড়াটেরা গতকাল রাতে কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে খাটের ওপর নাজমা ও আলমগীরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। একই সঙ্গে একটি মৃত ভ্রূণ পাওয়া যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। এ কারণে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যরা গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত দুজন স্বামী-স্ত্রী।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নাজমার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল জানিয়ে তাঁর বোন শাপলা বেগম বলেন, ‘আমরা দুই বোনই জামগড়ার একই কারখানায় কাজ করি। আজ শনিবারও সে অফিসে যায়নি। তখন ভাবছিলাম, আমার বোন তো পোয়াতি, হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে, তাই কাজে যায়নি।’
শাপলার দাবি, তাঁর বোন ও দুলাভাইকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তাঁর বোনের সন্তানটি পেট থেকে বেরিয়ে গেছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে ওই নারীর গর্ভপাত হয়ে আনুমানিক পাঁচ মাস বয়সী ভ্রণটি বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত ও পরিস্থিতি দেখে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
