■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে তিনজন নিহত হয়েছেন।শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এ ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে জনজীবন।
এদিকে আচমকা এ ঝড়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া নেত্রকোণায় বজ্রপাতে দু্জন নিহত হয়েছেন।
রাজধানীর নিউমার্কেট, বাংলামোটর, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় আকারের শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এঝড়ে অনেক এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে প্রথম দিন রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শনিবার দ্বিতীয় দিনেও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ফাল্গুনের শেষ সময়ে ঢাকায় হঠাৎ শিলা ও বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত প্রায় ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। হঠাৎ শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টিতে পথচারী ও ছিন্নমূল মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।
বৃষ্টির আগে থেকেই শিলা পড়া শুরু হয় এবং বৃষ্টির মধ্যেও তা কিছু সময় অব্যাহত থাকে। আকস্মিক এ আবহাওয়ার পরিবর্তনে অনেকেই আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিকুল নেওয়াজ কবির জানান, রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজধানীতে দীর্ঘদিন পর বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা।
অপরদিকে ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও বৃষ্টি হয়েছে। গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সিলেটে ৮৩ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী কয়েক দিন বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াও বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে প্রথম দিনে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, শনিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
রবিবার রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সোমবার ও মঙ্গলবার দেশের সব বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে; তবে পঞ্চম দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতিতেও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
