✍︎ কুমিল্লা প্রতিনিধি ✍︎
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।
তিনি জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তুহিনকে আটক করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় তুহিনকে দেখা গেছে।
এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনাসকে এবং এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর, সাড়ে ৭টার দিকে ফাহিমকে আটক করা হয়।
ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সন্দেহভাজন তুহিন, আনাস ও ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।’
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। কোটবাড়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়। শনিবার সকালে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় একটি ফুটেজে অপ্রতিমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে এক কিশোরের সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়। তার বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি এবং মাথায় ক্যাপ পরা ছিল।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয় এক ছেলেকে অপ্রতিমের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখে। তার গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। আমরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা তাদের কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল শুক্রবার অপ্রতিম বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, ডিনসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি টিম গতকাল থেকেই কাজ শুরু করে। আজ তার লাশ পাওয়া গেছে। আমাদের সন্তানের লাশ কত ভারী, তা বোঝানোর ক্ষমতা নেই।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।
আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।
