বাধ্যতামূলক অবসরে রাতের ভোটে জড়িত পুলিশের ৩৩ কর্মকর্তা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

২০১৮ সালে রাতের ভোটের সময় বিভিন্ন জেলায় এসপির দায়িত্ব পালন করা পুলিশের ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

রোববার (৫ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের অবসরে পাঠানো হয়। 

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিআইজিদের পাশাপাশি ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার (এসপি) রয়েছেন। 

বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তা নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন। তাদের বেশির ভাগ বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে আছেন।

চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী তাদের অবসরে পাঠানো হতে পারে। একইভাবে ওই সময় দায়িত্ব পালন করা প্রশাসন ক্যাডারের অন্তত ৩৩ জন জেলা প্রশাসককেও (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে, সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অবসরে পাঠাতে পারে। ২০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১ মে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই হিসেবে গত ৩০ মে তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।

গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের ২২ জন ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

এর পরপরই তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের ৬৪ জেলার এসপিদেরও অবসরে পাঠানো হবে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে তাদের ওএসডি এবং এখন স্থায়ী অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারাদের তালিকা

রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) সংযুক্ত ডিআইজি (বর্তমানে গ্রেফতার) মোল্যা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে সংযুক্ত ডিআইজি (ওএসডি, বর্তমানে গ্রেফতার) মো. সাইফুল ইসলাম, সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ডিআইজি মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, রংপুর রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ডিআইজি শাহ্‌ মিজান সাফিউর রহমান, পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) সারদায় সংযুক্ত ডিআইজি এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত ডিআইজি এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত ডিআইজি জিহাদুল কবির, বিপিএ-তে সংযুক্ত ডিআইজি মঈনুল হক, সিলেজ রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত মো. ইলিয়াস শরীফ, এপিবিএন সদর দপ্তরে সংযুক্ত শ্যামল কুমার নাথ, চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত ডিআইজি শাহ আবিদ হোসেন, এন্টি টেররিজম সদর দপ্তরে সংযুক্ত ডিআইজি জামিল হাসান, খুলনা রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান, সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত মো. মনিরুজ্জামান, বিপিএ-তে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি বরকতুূল্লাহ খান, অতিরিক্ত ডিআইজি টিএম মোজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ার হোসেন খান, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মেহেদুল করিম।

এছাড়া আরও রয়েছেন- রংপুর রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর কবীর, রংপুর পিটিসি-তে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসান, সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নিজামুল হক মোল্যা, এন্টি টেররিজমে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম এমরান হোসেন, এপিবিএনে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, রংপুর রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি ড. শামসুন্নাহার, চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজশাহী রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি সাইফুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, খুলনা রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি সাজিদ হোসেন, রংপুর রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরেফ, রাজশাহী রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মাশরুকুর রহমান খালেদ।

আতঙ্কে সাবেক ৩৩ ডিসি

একই ব্যাচের (বিসিএস ২০তম) যে ৩৩ জন সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে যুগ্ম সচিব হিসেবে ওএসডি আছেন, তারাও চাকরি হারানোর চূড়ান্ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

তালিকায় থাকা সাবেক ডিসিরা

মো. মাজেদুর রহমান খান (চাঁদপুর), মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী (পটুয়াখালী), সাবিনা ইয়াসমিন (পঞ্চগড়), ড. আতাউল গনি (মেহেরপুর), আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন (পিরোজপুর), এম কাজী এমদাদুল ইসলাম (সিলেট – বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত), এস এম মোস্তফা কামাল (সাতক্ষীরা), অঞ্জন চন্দ্র পাল (লক্ষ্মীপুর), মোছা. সুলতানা পারভিন (কুড়িগ্রাম), মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী (কিশোরগঞ্জ), মো. শহীদুল ইসলাম (খাগড়াছড়ি), মো. হেলাল হোসেন (খুলনা), মো. আলী আকবর (মাগুরা), মোহাম্মদ দাউদ ইসলাম (বান্দরবান), এ জে এম নুরুল হক (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।

এ জেড এম অজিয়র রহমান (বরিশাল), মোহাম্মদ আলম ছিদ্দিকী (ভোলা), গোপাল চন্দ্র দাস (চুয়াডাঙ্গা), কাজী আবু তাহের (শরীয়তপুর), মো. মিজানুর রহমান (নওগাঁ), মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ (সুনামগঞ্জ), আনার কলি মাহবুব (শেরপুর), সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন (নরসিংদী), মাহমুদুল কবির মুরাদ (হবিগঞ্জ), আবুল ফজল মীর (কুমিল্লা), মঈন উল ইসলাম (নেত্রকোনা), ওয়াহেদুজ্জামান (ফেনী), এ কে এম মামুনুর রশিদ (রাঙামাটি), এস এম আব্দুল কাদের (রাজশাহী), ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম (ঠাকুরগাঁও), কবীর মাহমুদ (বগুড়া), মো. মাহমুদুল আলম (দিনাজপুর) এবং হায়াত উদ দৌলা খান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *