শিক্ষাছুটি নিয়ে দেশে ফেরেননি খুবির ৩৯ শিক্ষক

✍︎ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ✍︎

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দীর্ঘ ৩৪ বছরের ইতিহাসে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাছুটির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের দুই বছর পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটির আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথমে এক বছরের জন্য ছুটি দেওয়া হয়। মাস্টার্স বা এমফিল ডিগ্রির জন্য একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনবার (মোট তিন বছর) বেতনসহ শিক্ষা ছুটি নিতে পারেন।

অন্যদিকে পিএইচডি ডিগ্রির জন্য একজন শিক্ষক এক বছর করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বেতনসহ ছুটি ভোগ করতে পারেন।

এরপর প্রয়োজন হলে আরও দুই বছর ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ওই সময় তিনি কোনো বেতন-ভাতা পাবেন না। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাত বছর শিক্ষাছুটি শেষে শিক্ষককে কর্মস্থলে যোগদান করতে হয়। অন্যথায় তার চাকরি বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়া ৩৯ জন শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। তাদের মধ্যে অনেকে সাত বছরের নির্ধারিত ছুটি শেষ করেছেন। আবার সাত-আটজন শিক্ষক শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এসব শিক্ষক পিএইচডি, এমএসসি (মাস্টার্স) ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করলে আমাদের করণীয় খুবই সীমিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগদান না করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দুই থেকে তিন দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান। এছাড়া সাত-আটজন শিক্ষক চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাদের কাছেও প্রাপ্ত অর্থ ফেরতের বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আরও ১১ থেকে ১২ জন শিক্ষককে কর্মস্থলে ফিরে আসার জন্য প্রাথমিকভাবে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর দেশে না ফেরার প্রবণতা মূলত আমাদের দেশেই বেশি দেখা যায়। শিক্ষাছুটি নিয়ে আর ফিরে না আসা জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণার শামিল।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আগে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এটি শুধু রাষ্ট্রের জন্য নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও ক্ষতিকর। কারণ এসব পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ থাকে না। ফলে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *