✍︎ দিনাজপুর প্রতিনিধি ✍︎
২৯ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটে ফের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিটটি চালু করা হয়।
বর্তমানে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট সচল রয়েছে। ১ নম্বর ইউনিট থেকে বর্তমানে প্রায় ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। অন্যদিকে তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘তৃতীয় ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আগে একটি ইউনিট সীমিত পরিসরে চালু থাকায় মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল।’
২০১৭ সালে স্থাপিত তৃতীয় ইউনিটটি দীর্ঘদিন সচল থাকার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যায়। সংস্কার শেষে ২০ মে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হলেও উৎপাদন শুরুর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় কারিগরি ত্রুটির কারণে আবারও বিকল হয়ে পড়ে। ২৫ মে থেকে ইউনিটটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। প্রয়োজনীয় মেরামত ও কারিগরি জটিলতা নিরসনের পর অবশেষে ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানান, কোল ইয়ার্ড-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদিত কয়লা বিকল্প স্থানে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্মুক্ত বাজারে বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নিকটবর্তী বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট চালু হওয়ায় কয়লার ব্যবহার বাড়বে। এতে উৎপাদিত কয়লার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
তৃতীয় ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবদান আরও শক্তিশালী হবে।
