কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৪৫১ জন মুচলেকায় মুক্ত

✍︎ কুমিল্লা প্রতিনিধি ✍︎

কুমিল্লায় একযোগে চালানো কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬২৪ জনের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী।

বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে এ কথা জানান।

বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, নগরসহ জেলার ১৮টি থানার আওতাধীন যেসব এলাকায় বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের আগের কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কুমিল্লা নগরের কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতার অন্যতম এলাকা কোতোয়ালি মডেল থানার অভিযানে ৭১ জনকে আটক করা হয়। যদিও এর আগে বলা হয়েছিল এখানে আটকের সংখ্যা ৭৫ জন। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসাবের ৭১ জনের মধ্যে ৩০ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা নগরে বর্তমানে কয়েকটি কিশোর গ্যাং বা দল সক্রিয় আছে। এর মধ্যে কিং স্কোয়াড, রতন গ্রুপ, ইগল, সিবিকে ও ক্রাইম সেটআপ -এর নাম আলোচনায় আছে। এ ছাড়া অপু ও সাব্বিরের নামে আরও দুটি দলের কথাও স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন নথিতে এসেছে। তবে কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনো হালনাগাদ তালিকা পুলিশের কাছে নেই।

প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০১৫ সালের দিকে কুমিল্লা নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। তখন তিন থেকে চারটি দল সক্রিয় ছিল। ২০২২ সালের দিকে আলোচিত দলের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০–এ দাঁড়ায়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নাম এসেছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন, গত বছরের ৩০ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কিশোর হওয়ায় অনেকে গ্রেফতারের পর দ্রুত মুক্তি পেয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকের মা-বাবাকে ডেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *