✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
৪৯তম বিসিএসে (বিশেষ) শিক্ষা ক্যাডারে পিএসসির সুপারিশের পরও বাদ পড়া ৪৬ জনের গেজেট আগামী সোমবার প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজ দপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে ৬৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। ৮ জন মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। এতে থাকে ৬৫৭ জন। রাজনৈতিক পরিচয়ে কোনো বৈষম্য করা হয়নি। প্রজ্ঞাপন কয়েক ধাপে জারি করা হয়।
তিনি বলেন, একজন যিনি আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের সদস্য। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্ত করা হয়।
বাদ পড়া ৪৬ জনের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী সোমবার পিএসসির সুপারিশের পরও বাদ পড়া ৪৬ জনের গেজেট প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় ইতিহাস বিষয়ে মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছিলেন। তবে আজ বুধবার( ৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেটে বাদ পড়েছেন তিনি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গেজেটে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে পিএসসি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৮৩টি পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ওই তালিকায় ইতিহাস বিষয়ে প্রথম হন সোহেল রানা।
গেজেটে নাম না আসার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে ক্ষোভ জানান এই ঢাবি শিক্ষার্থী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ, ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার থেকে প্রথম হয়েও আমাকে গেজেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য।’
গেজেট থেকে বাদ পড়া আরেক ঢাবি শিক্ষার্থী রেদওয়া আহমেদ তাহমিদ বলেন, অনেক কষ্ট করে বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছি। লিখিত ও ভাইভায় উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। ভেরিফিকেশনের সময় আমাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। আমি কখনো ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না এবং কোনো সিভিও জমা দিইনি।
তিনি বলেন, আমার বাবার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। এরপর গতকাল গেজেট প্রকাশের পর দেখি আমার নাম নেই। আমাদের যদি আগে জানিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে অন্য চাকরির পরীক্ষায় চেষ্টা করতে পারতাম। আমরা চাই ১২ অক্টোবরের যোগদানের আগেই আমাদের গেজেটভুক্ত করা হোক।
সোহেল রানা বলেন, ‘ইতিহাসে মেধা তালিকায় আমার প্রথম স্থান ছিল। আমাকে গেজেট থেকে বঞ্চিত কেন করা হলো? জানি না।’
তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেই। ছাত্র রাজনীতি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার এবং পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার পরিবারের বা শিক্ষাজীবনের কোথাও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। কেন তার নাম বাদ পড়ল, সে বিষয়ে তিনি কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।
সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হোসেন ও গৃহিণী সাহিদা বেগম-এর চতুর্থ সন্তান।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৩.৫৪ পেয়ে স্নাতক এবং ২০২১ সালে একই বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৩.৫৬ পেয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
এর আগে, তিনি ২০১৪ সালে ডোমার সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে জিপিএ-৪.৯২ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
